× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

রংপুর

বোরো উৎপাদনে ব্যয় হচ্ছে অতিরিক্ত ৭ হাজার টন ডিজেল

এহসানুল হক সুমন, রংপুর

প্রকাশ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬ ১৮:০৬ পিএম

রংপুরে বোরো ক্ষেতে সেচ দেওয়া হচ্ছে । ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

রংপুরে বোরো ক্ষেতে সেচ দেওয়া হচ্ছে । ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

রংপুর অঞ্চলে দ্বিগুন সেচ দিয়ে উৎপাদন করা হচ্ছে বোরো ধান। প্রচলিত পদ্ধতিতে অনুমানের উপর ভিত্তি করে সেচ দেয়ায় বাড়তি জ্বালানি পুড়িয়ে বোরো ধান আবাদ করতে হচ্ছে কৃষকদের। এতে করে প্রতি বছর সেচ নির্ভর বোরো মৌসুমে জ্বালানির উপর চাপ বাড়ছে। 

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে চলমান বোরো মৌসুমে জ্বালানি সংকটে ভূগছেন কৃষক। ফলে সঠিক সময়ে সেচ দিতে না পেরে ধানের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার শংঙ্কা দেখা দিয়েছে। 

এদিকে সেচ সাশ্রয়ী পদ্ধতি ব্যবহারে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সচেতনতা বৃদ্ধিতে তেমন উদ্যোগ নেই। ফলে উৎপাদন খরচ, আর ভূ-গর্ভস্থ পানির উপর বাড়ছে চাপ, যা দীর্ঘমেয়াদে প্রভাব ফেলছে উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকায়।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ধান জলজ উদ্ভিদ না হলেও পানি বেশি পছন্দ করে। তবে সারাক্ষণ পানিতে ভাসিয়ে জমি টইটম্বুর করে রাখলে ধান গাছের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। পানি বেশি হলে বিভিন্ন ছত্রাকজনিত রোগ, রোগের জীবাণু ও গাছের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। এতে ফুল-ফল ঝড়ে পড়ে ও দানা পুষ্ট হয় না, এবং ফলন কম হয়।

তবে প্রতি কেজি বোরো ধান উৎপাদন করতে কৃষকের ১ হাজার ২শত থেকে ২ হাজার লিটার পানির প্রয়োজন হয়। 

কিন্তু কৃষকরা অজ্ঞতার কারণে এক কেজি ধান উৎপাদনের জন্য গভীর-অগভীর নলকূপ ব্যবহার করে ভূ-গর্ভ থেকে ৩ থেকে ৪ হাজার, কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৫ হাজার লিটার পানিও খরচ করছেন। এতে করে অতিরিক্ত সেচের জন্য তাদের বাড়তি তেল খরচ করতে হচ্ছে। অর্থাৎ প্রতি কেজি ধানের জন্য প্রায় দেড় হাজার লিটার পানি বেশি ব্যবহার করা হচ্ছে।

সেচ নিয়ে মাঠ পর্যায়ে কৃষি বিভাগের মনিটরিং না থাকায় কৃষকরা অনুমান করেই বোরো ধানে সেচ দিয়ে আসছেন। কৃষি কাজে ভূ-গর্ভস্থ পানি ব্যবহার ব্যবস্থাপনা আইন থাকলেও তার মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়ন নেই। সেচ সাশ্রয়ে ডিএসআর, এডব্লিউডি পদ্ধতি থাকলেও সেটি মাঠ পর্যায়ে ব্যাপকভাবে সম্প্রসারণ হয়নি। 

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে দেশে জ্বালানি সংকট দেখা দেয়ায় দুঃশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষক। পেট্রোল পাম্পে অপেক্ষা করেও অনেকে পাচ্ছেন না তেল।

কৃষি বিভাগ সূত্রে আরও জানা গেছে, রংপুর কৃষি অঞ্চলের পাঁচ জেলা (রংপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী ও গাইবান্ধা জেলা) এ বছর ৫ লাখ ৯ হাজার ১৯৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এসব জমিতে সেচের জন্য বিদ্যুৎ চালিত গভীর-অগভীর ও এলএলপি দিয়ে জমিতে সেচ দেয়ার পাশাপাশি ডিজেল চালিত ৯৬ হাজার ৪১৯টি অগভীর নলকূপ ও ৬৬৬টি এলএলপি দিয়ে ১ লাখ ১৮ হাজার ৭৮১ হেক্টর জমিতে সেচ দেওয়া হচ্ছে। 

কৃষকরা জানিয়েছেন, এক একর জমিতে ১৫ থেকে ২০ বার সেচ দিতে ৫০ থেকে ৬০ লিটার ডিজেলের প্রয়োজন হয়। এক হেক্টরে লাগে প্রায় ১৪৯ লিটার ডিজেল। সে হিসেবে এ মৌসুমে রংপুর অঞ্চলে সেচ দিতে ডিজেল লাগবে ১৫ হাজার টন ডিজেল। কৃষকরা সেচ সাশ্রয়ী পদ্ধতি অবলম্বন করলে রংপুর অঞ্চলে প্রায় ৭ হাজার টন ডিজেল সাশ্রয় হতো।

তারাগঞ্জের ইকরচালীর কৃষক শিপুল ইসলাম বলেন, প্রচলিত পদ্ধতিতে আমরা বোরো ধানের জমিতে সেচ দিয়ে থাকি। চলতি বোরো মৌসুমে ধান উৎপাদন পর্যন্ত কমপক্ষে ১৫ থেকে ১৬ বার সেচ দিতে হয়। বর্তমানে ডিজেলের সংকট চলছে। সেচ নিয়ে আমরা চরম দুঃশ্চিন্তায় রয়েছি।

মাহিগঞ্জের কৃষক বেলাল হোসেন বলেন,“বোরো ধান তো পানিতেই হয়। জমিত দেখি পানি আছে কি নাই। না থাকলে দেই। বাপ-দাদারা যেইভাবে আবাদ করি আসচে, সেইভাবে হামরাও আবাদ করতোছি। এ্যালা যদি কৃষি অফিসাররা নতুন কিছু শিখি দেয়, তাইলে ওইভাবে আবাদ করমো।”

কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বোরো আবাদে সেচের পরিমাণ কমাতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে এডব্লিউডি, ডিএসআর পদ্ধতিতে ধান উৎপাদনের কৌশল মাঠ পর্যায়ে ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এসব পদ্ধতি  ব্যবহারে কৃষক এক হাজার থেকে ১ হাজার ২ শত লিটার পানি নিয়ে এক কেজি ধান উৎপাদন করতে পারবে। কিন্তু এসব প্রযুক্তির সাথে কৃষকের খাপ খাইয়ে নিতে ব্যাপক জনসচেতনতা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইরি রংপুর হাবের প্রধান আবু আব্দুল্লাহ মিয়াজী বলেন, “ইরির পক্ষ থেকে কৃষকের আমন ও বোরো ধানের ক্ষেত্রে এডব্লিউডি পদ্ধতি ছড়িয়ে দিতে আমরা কাজ করছি। এছাড়া আমনের ক্ষেত্রে ডিএসআর পদ্ধতি অবলম্ব করা হচ্ছে। বোরোর ক্ষেত্রে প্রচলিত পদ্ধতিতে কৃষকরা এক কেজি ধান উৎপাদনে ৫ হাজার থেকে কমপক্ষে ১ হাজার ৭ শত লিটার পানি ব্যবহার করলেও এডব্লিউডি পদ্ধতিতে কৃষকের সেচ লাগছে মাত্র এক হাজার লিটার পানি।

তবে এখনও ব্যাপকভাবে এসব পদ্ধতি ছড়িয়ে দেয়া সম্ভব হয়নি। এক্ষেত্রে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পাশাপাশি বেসরকারী উদ্যোগেও এসব পদ্ধতি কৃষকের মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে। তাহলে সেচ খাতে কৃষকের অর্থ সাশ্রয় হবে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট থেকে আমরা কিছুটা রেহাই পাবো।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, “জ্বালানি তেলের এই সংকটের সময়ে তেল এবং পানি অপচয় দুটোই বন্ধ করতে হবে। এবার বৃষ্টির কারণে কয়েকটি সেচ প্রাকৃতিকভাবে হয়ে গেছে। কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে জমির পানি শুকিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যেন সেচ দেয়া না হয়। কয়েকদিন পরে দিতে হবে। এটাই উত্তম নিয়ম।” 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা