কক্সবাজার প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০২৬ ১৯:০৬ পিএম
জলকেলি বা সাংগ্রাইন পালন করছে রাখাইন তরুণীরা। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
বর্ষ বিদায় ও বরণ উপলক্ষে কক্সবাজারের রাখাইন সম্প্রদায় ঐতিহ্যবাহী সাত দিনের ‘সাংগ্রেং’ উৎসব পালন করে আসছে দীর্ঘদিন ধরে।
রাখাইন পঞ্জিকা অনুসারে বৃহস্পতিবার শেষ হয়েছে রাখাইন বর্ষ ১৩৮৭। শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে নতুন বর্ষ ১৩৮৮।
সামাজিক নিয়ম অনুযায়ী, গত ১৪ এপ্রিল থেকে শুরু হয়েছে এই উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। প্রথম কয়েকদিন বৌদ্ধ বিহারগুলোতে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের মাধ্যমে সময় অতিবাহিত করেন রাখাইনরা। এরপর নতুন বছরের প্রথম দিন থেকে শুরু হয় সবচেয়ে আকর্ষণীয় পর্ব, তিন দিনব্যাপী জলকেলি বা সাংগ্রাইন উৎসব।
রাখাইন বুড্ডিস্ট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মংছেন হ্লা রাখাইন জানান, উৎসব উপলক্ষে সকালে প্রতিটি রাখাইন পল্লী থেকে শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণী ও বয়োজ্যেষ্ঠরা শোভাযাত্রা নিয়ে বৌদ্ধ বিহারে যান। এতে কনিষ্ঠরা মাটির কলস এবং বয়োজ্যেষ্ঠরা কল্পতরু বহন করেন। ধর্মীয় আচার শেষে বিকেলে তরুণ-তরুণীরা দল বেঁধে বাদ্যযন্ত্রসহ জলকেলির প্যান্ডেলগুলোতে অংশ নেন।
তিনি আরও জানান, প্রতিটি প্যান্ডেল সাজানো হয় নানা প্রজাতির ফুল ও রঙিন কাগজে। প্যান্ডেলের মাঝখানে রাখা হয় পানিভর্তি ড্রামসহ বিভিন্ন উপকরণ। এক পাশে অবস্থান করেন তরুণীরা এবং অন্য পাশে তরুণরা। নাচ-গানের মধ্য দিয়ে একে অপরের দিকে ছুড়ে দেন ‘মঙ্গল জল’। রাখাইনদের বিশ্বাস, এই মঙ্গলজল ছিটানোর মাধ্যমে পুরোনো বছরের গ্লানি, দুঃখ ও অপ্রাপ্তি দূর হয়ে নতুন বছরের শুভ সূচনা ঘটে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, কক্সবাজার শহরের পূর্ব-পশ্চিম মাছ বাজার, ফুলবাগ সড়ক, ক্যাং পাড়া, হাঙর পাড়া, টেকপাড়া, বার্মিজ স্কুল রোড, বৌদ্ধ মন্দির সড়ক ও চাউল বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় এই উৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এছাড়া জেলার মহেশখালী, টেকনাফ, চকরিয়া, হারবাং, রামু ও চৌফলদন্ডীসহ বিভিন্ন স্থানে অন্তত অর্ধশত প্যান্ডেলে চলছে বর্ষবরণ আয়োজন।
উৎসবকে কেন্দ্র করে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। কক্সবাজার জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) দেবদূত মজুমদার জানান, প্রতিটি প্যান্ডেলে পুলিশের উপস্থিতি থাকবে। পাশাপাশি সাদা পোশাকে নজরদারিও জোরদার করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সম্প্রীতি ও আনন্দঘন পরিবেশে উৎসবটি সম্পন্ন হবে।