পটুয়াখালী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০২৬ ১৬:০৫ পিএম
আপডেট : ১৬ এপ্রিল ২০২৬ ১৬:১১ পিএম
আবু রায়হানের ফসলের মাঠ পরিদর্শন শেষে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দেন। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
উপকূলীয় এলাকায় বিনা চাষে রবিশস্য চাষে নতুন সম্ভাবনার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন শিক্ষার্থী কৃষক আবু রায়হান। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের উদ্ভাবিত প্রযুক্তি ব্যবহার করে রসুন, আলুসহ বিভিন্ন রবিশস্য চাষ করে তিনি এরই মধ্যে লাভের মুখ দেখছেন।
পটুয়াখালী সদর উপজেলার পূর্ব জৈনকাঠী ইউনিয়নে আমন ধান কাটার পর ভেজা জমিতেই কোনো চাষ ছাড়াই রসুন, মিষ্টি কুমড়াসহ বিভিন্ন রবিশস্য আবাদ করেন আবু রায়হান। তার এই উদ্যোগ স্থানীয় কৃষকদের মাঝেও আগ্রহ তৈরি করেছে।
আবু রায়হানের ফসলের মাঠ পরিদর্শন শেষে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দেন।
তিনি বলেন, উপকূলীয় জেলাগুলোতে আমন ধান কাটার পর মুগডাল ও তরমুজ ছাড়া অধিকাংশ জমি পতিত থাকে। এসব জমিকে চাষের আওতায় এনে কম খরচে রবিশস্য উৎপাদনের লক্ষ্যে নতুন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি।
এই প্রযুক্তির মাধ্যমে বিনা চাষে রসুন, আলুসহ বিভিন্ন রবিশস্য চাষে এর মধ্যেই সফলতা এসেছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

আবু রায়হান জানান, তার বাবা কৃষক ছিলেন। দুই বছর আগে বাবার মৃত্যুর পর কলেজে পড়াশোনার পাশাপাশি তাকে কৃষিকাজে যুক্ত হতে হয়। জেলা কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরামর্শে আমন ধান ঘরে তোলার পর ভেজা জমিতে রসুনের বীজ বপন করেন তিনি।
প্রথমে দুই বিঘা জমিতে রসুন চাষে তার খরচ হয় প্রায় ৬০ হাজার টাকা। এতে প্রায় ৮০ মণ রসুন উৎপাদনের আশা করছেন, যার বাজারমূল্য প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা হতে পারে বলেও জানান রায়হান।
এর পাশাপাশ আড়াই বিঘা জমিতে মিষ্টি কুমড়া চাষ করে এখন পর্যন্ত ৩৫ হাজার টাকার কুমড়া বিক্রি করেছেন তিনি। জমিতে আরও প্রায় ৫০ হাজার টাকার কুমড়া রয়েছে, বলেন রায়হান।
পটুয়াখালী জেলায় বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বিনা চাষে রসুন, মিষ্টি কুমড়া, আলু, সূর্যমুখী ও কাউনসহ বিভিন্ন রবি ফসল চাষে কৃষকদের প্রযুক্তিগত সহায়তা ও কৃষি উপকরণ দিচ্ছে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের সরেজমিন গবেষণা বিভাগ।