নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০২৬ ১৫:৪৪ পিএম
বরিশাল নগরীর সার্কিট হাউজে বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে যে সংসদ গঠিত হয়েছে, সেই সংসদ বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অবসরপ্রাপ্ত) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
ভোলা সফরের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার বেলা ১২টায় বরিশাল নগরীর সার্কিট হাউজে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন।
স্পিকার বলেন, গণতন্ত্র ছাড়া বাংলাদেশের মুক্তি বা সমৃদ্ধি সম্ভব নয়। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি অর্জন করা সম্ভব।
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বর্তমানে পড়াশোনা ও খেলাধুলার থেকে রাজনীতির প্রতি মানুষের বেশি আকর্ষণ। বাংলাদেশটা স্বাধীন হয়েছে রাজনৈতিক আগ্রহের কারণে। কখনও আবার স্বৈরশাসন যখম মানুষের ওপর চেঁপে বসে, সে সময় ছাত্র যুবকরাই জনগণের পক্ষ থেকে রাজপথে নেমে এসে স্বৈরশাসনের অবসান ঘটিয়ে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে আবার প্রবর্তন করেছেন।
তিনি বলেন, গণতন্ত্র ছাড়া বাংলাদেশের মুক্তি বা সম্প্রীতি অর্জন সম্ভব নয়, সেই দিক দিয়ে রাজনীতি একটি ভালো দিক আমি লক্ষ্য করেছি। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সচেতনতা বেড়েছে। গণতন্ত্রের প্রতি তাদের ঐকান্তিক আগ্রহ বেড়েছে। এটি বাংলাদেশকে অনেক এগিয়ে নিয়ে যাবে।
হাফিজ উদ্দিন বলেন, গত ১৬ বছরের স্বৈরশাসনের পর ছাত্র জনতা, সাধারণ মানুষ রাজপথে নেমে যেভাবে মাফিয়া তন্ত্রের অবসান ঘটিয়েছে, সেটি বাংলাদেশের জন্য এক গৌরবময় অধ্যায়। এ দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে- এটাই কামনা করছি। পাশাপাশি গণতন্ত্রের মাধ্যমেই দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি অর্জন করা সম্ভব হবে। সুন্দর নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে সংসদ গঠিত হয়েছে। আশা করি এই সংসদ বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হবে।
স্পিকার আরও বলেন, রাজনীতি কখনও আকর্ষণ করেনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হিসেবে কোনও রাজনীতি করিনি। এরপর সেনাবাহিনীতে যাই, মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করি। সেনাবাহিনী থেকে বের হওয়ার ১০ বছর পর যে কোনো ঘটনাচক্রে রাজনীতিতে যাই। আমার এলাকাবাসী লালমোহন ও তজুমদ্দিন দুটি থানার মানুষের প্রতি আমি খুবই কৃতজ্ঞ, তারা ৭ বার আমাকে জাতীয় সংসদে নির্বাচিত করেছেন।
স্পিকার বরিশালে তার শৈশবের সময়ে কাটানো দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করেন। এর আগে বরিশাল সার্কিট হাউজে স্পিকারকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। পরে সেখান থেকে নিজের সংসদীয় আসন ভোলার উদ্দেশে তিনি রওনা দেন।