মেহেরপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০২৬ ১০:১৭ এএম
আপডেট : ১৬ এপ্রিল ২০২৬ ১০:২৪ এএম
স্কুল ছুটির পর বাথরুমে থাকা অবস্থায় স্কুল ভবনের ফটকে তালা দেওয়ায় ভেতরে আটকা পড়ে তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী সাদিয়া। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
মেহেরপুর শহরের বিএম মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক উদ্বেগজনক ঘটনা ঘটেছে। স্কুল ছুটি হলে ভবনের ফটকে তালা দিলে বাথরুমে থাকা অবস্থায় ভেতরে আটকা পড়ে যায় তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী সাদিয়া (৮) ।
দায়িত্বরত শিক্ষক-কর্মচারীরা স্কুল ভবন ও মূল ফটকে তালা দিয়ে চলে যাওয়ায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।
শিশুটিকে উদ্ধারের সময় আসা স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন, স্কুল ছুটি হলে শিক্ষকরা বুধবার বিকাল চারটার দিকে যথারীতি বিদ্যালয় ত্যাগ করেন। ওই সময় বাথরুমে থাকা সাদিয়া তালাবদ্ধ অবস্থায় ভেতরেই আটকা পড়ে যায়।
তারা আরও বলেন, সময় গড়াতে থাকলে শিশুটি ভয়ে কান্নাকাটি ও চিৎকার শুরু করে। তার সেই হৃদয়বিদারক চিৎকার স্কুলসংলগ্ন পথচারীদের কানে পৌঁছালে বিষয়টি সামনে আসে।
উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে উদ্ধার সাদিয়া
এদিকে নির্ধারিত সময়েও বাড়িতে না ফেরায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন সাদিয়ার বাবা, পুরাতন পোস্ট অফিস পাড়ার বাসিন্দা মনিরুল ইসলাম।
তিনি বলেন, খোঁজ নিতে এসে এলাকাবাসীর সহায়তায় বিদ্যালয়ের মূল ফটক খুলে ভেতরে প্রবেশ করেন।
তিনি আরও জানান, ভেতরে প্রবেশ করতে পারলেও ভবনের কলাপসিবল দরজা ভেঙে বা খুলে শিশুটিকে বের করা সম্ভব না হওয়ায়, স্থানীয়রা এক পর্যায়ে স্কুলের এক শিক্ষিকাকে ডেকে আনেন।
প্রায় এক ঘণ্টা উৎকণ্ঠার পর শিক্ষিকা লিনা ভট্টাচার্যের উপস্থিতিতে অবশেষে সাদিয়াকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় শিশুটি ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় ছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে ঘটনাটি
ঘটনাটি রাত সাড়ে এগারোটার দিকে জানাজানি হলে গণমাধ্যমকর্মীরা বিদ্যালয়ের অফিসিয়াল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। তবে বিষয়টি জানতে চাইলে ফোন কেটে দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে আরো কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী ওই নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কল রিসিভ করা হয়নি।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় রাত প্রায় বারোটার দিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন মেহেরপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খায়রুল ইসলাম। তিনি স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার প্রাথমিক তথ্য নেন এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন, তবে কোনো সাড়া পাননি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, শিশুটি সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার হয়েছে, এটাই স্বস্তির বিষয়। তবে ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার শিক্ষক ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলা হবে বলেও জানান তিনি।