বান্দরবান প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬ ২০:৫০ পিএম
আপডেট : ১৫ এপ্রিল ২০২৬ ২০:৫১ পিএম
উৎসবে ২৩টি দল পর্যায়ক্রমে মৈত্রী পানি বর্ষণ খেলায় অংশগ্রহণ করছে। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
পুরনো বছরের দুঃখ-কষ্ট ও গ্লানি মৈত্রী পানি দিয়ে ধুয়ে-মুছে নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে বান্দরবানে শুরু হয়েছে মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী বর্ষবরণ উৎসব মাহা সাংগ্রাইং পোয়ে। উৎসবের অংশ হিসেবে মৈত্রী পানি বর্ষণ খেলায় রঙিন হয়ে উঠেছে পাহাড়, আর নাচ-গানে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।
ঐতিহাসিক রাজার মাঠে বুধবার বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে মৈত্রী পানি বর্ষণ খেলার উদ্বোধন করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, মারমা ভাষার জনপ্রিয় “সাংগ্রাইং মা” গানটি শুনলেই তিনি নস্টালজিক হয়ে পড়েন। গানটির রচয়িতা প্রয়াত উপঞঞাজোট মহাথেরো প্রকাশ উচহ্লার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান তিনি।
পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন, পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মধ্যে তিনিই প্রথম সহকারী জজ ও ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন এবং পরবর্তীতে দ্বিতীয় যুগ্ম জেলা জজ হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে রাজনীতিতে যুক্ত হন।
মন্ত্রী আরও বলেন, “মারমা সংস্কৃতি অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও গৌরবময়। দেশের বহুত্ববাদী ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে এবং হারিয়ে যেতে বসা সংস্কৃতিগুলো পুনরুদ্ধারে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে”।
তিনি আগামীর দিনগুলো সবার জন্য শুভ, কল্যাণ ও মঙ্গলময় হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে পার্বত্য অঞ্চলের সংস্কৃতি সংরক্ষণে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
উৎসবে ২৩টি দল পর্যায়ক্রমে মৈত্রী পানি বর্ষণ খেলায় অংশগ্রহণ করছে। আয়োজকরা জানান, ১৯৭৩ সাল থেকে বান্দরবানে এই ঐতিহ্যবাহী খেলার প্রচলন রয়েছে। মিয়ানমার, থাইল্যান্ডসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও অনুরূপ পানি উৎসব পালিত হয়।
মাহা সাংগ্রাইং পোয়ে উপলক্ষে আয়োজন করা হয়েছে বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরী এমপি, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক থানজামা লুসাই, জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস এবং পুলিশ সুপার আব্দুর রহমানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
মৈত্রী পানি বর্ষণের প্যান্ডেল সাজানো হয় মারমা ঐতিহ্য অনুযায়ী কলাগাছ, খেজুর পাতা ও নারিকেল পাতা দিয়ে। এসব উপকরণকে মারমা সম্প্রদায়ের মানুষ মঙ্গল ও সমৃদ্ধির প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করেন।
এর আগে সকালে মন্ত্রী ডলুপাড়া মারমা সম্প্রদায় ও গুংগুরু পাড়া খেয়াং সম্প্রদায়ের মৈত্রী পানি বর্ষণ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন।