চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ১৪ এপ্রিল ২০২৬ ২০:৩৩ পিএম
আপডেট : ১৫ এপ্রিল ২০২৬ ২০:৩৯ পিএম
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নববর্ষের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।
দেশ গড়ার প্রত্যয়ে সকলকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। তিনি বলেন, আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে যাতে এ দেশে আবার কোনো অগণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা কেউ কায়েম করার দুঃসাহস দেখাতে না পারে। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জারুলতায় আয়োজিত পহেলা বৈশাখ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে
উদ্বোধক ও প্রধান বক্তা ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ
আল্-ফোরকান। চবি উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) ও পহেলা বৈশাখ উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর
ড. মো. কামাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চবি উপ-উপাচার্য (একাডেমিক)
প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান ও বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল-আমীন।
প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, ২৪ এর জুলাই আন্দোলনে বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ফিরিয়ে আনার যে আকাঙ্খা ছিল, আজকের অনুষ্ঠানে এসে সম্মিলিতভাবে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আয়োজন দেখে মনে হয়েছে আমরা বহুলাংশে সফল হয়েছি। আজকে চট্টগ্রাম শহরে এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে যে প্রাণচাঞ্চল্য, উৎসাহ-উদ্দীপনা এবং সৌহার্দ্য দেখেছি, সম্পীতির মনোভাব দেখেছি—এটাতেই মনে হয়েছে, আমাদের সব কষ্ট সফল হয়েছে, আলহামদুলিল্লাহ।
এই
দেশ আমাদের কারো একার না মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, এই দেশ ১৮ কোটি বাংলাদেশীর দেশ।
বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান একটি রাজনৈতিক
দর্শন বাংলাদেশীদের দিয়েছিল, এটার উদ্দেশ্য ছিল সকল বাংলাদেশীকে একটি প্ল্যার্টফর্মে
নিয়ে আসা। এজন্য তিনি বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ ধারণা দিয়েছিলেন। আমাদের প্রধানমন্ত্রী
তারেক রহমান তাঁর ৩১ দফায় রংধনু জাতি গঠনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছিলেন। আজকে যে রংধনু
জাতি গঠনের প্রত্যয় ছিল সেটি আজকে আমি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের প্রতিটি
কোণায় কোণায় দেখতে পাচ্ছি। সকল জাতি, ধর্ম, বর্ণের মানুষ এটাকে ধারণ করেছে। এটাতেই
আমি আশাবাদী ভবিষ্যৎ যে বাংলাদেশ হবে সেটা হবে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ। সম্প্রীতির মাধ্যমে
সৌহার্দ্যের মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধভাবে আমরা এ দেশকে কাঙ্খিত উন্মতি এবং উন্নতির পথে নিয়ে
যেতে পারবো।
প্রতিমন্ত্রী
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল ট্রেনের সমস্যার কথা উল্লেখ করে নানা সমস্যা সমাধানের
আশ্বাস প্রদান করেন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে সবসময় সরব থেকে কাজ করার
প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। স্থানীয় এলাকাবাসীর সাথে শিক্ষার্থীদের সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক
গড়ে তুলতে উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
মীর
হেলাল বলেন, তারেক রহমানের সরকার কোনো অন্যায়কে প্রশ্রয় দিচ্ছে না। সকল অপরাধ দমনে
আমরা জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করছি। চবি ক্যাম্পাসে সকল শিক্ষক-শিক্ষার্থী যাতে
নির্বিঘ্নে পাঠদান ও পাঠগ্রহণ করতে পারে সে ব্যাপারে নজর থাকবে।
শহীদ
প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং ৭১ এর বীর শহীদদের, ২৪ এর
জুলাই আন্দোলনের শহীদদের শ্রদ্ধায় স্মরণ ও ও আহতদের গভীর সমবেদনা জানিয়ে চবি উপাচার্য
প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান বলেন, ২০১৭ সালের পর থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে
কোনো ডিপিপি আসেনি। যার কারণে দীর্ঘদিন আমাদের
ক্যাম্পাসে আবাসন বা ভবন গড়ে উঠেনি। এছাড়া শাটলের সমস্যার কথা উল্লেখ করেন উপাচার্য।
উপাচার্য পহেলা বৈশাখ উদযাপনে চারুকলা ইনস্টিটিউটের সহযোগিতার কথা স্মরণ করে ধন্যবাদ
জানান। এছাড়া উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক, সকল সদস্য, সকল উপ-কমিটির সদস্যদের ধন্যবাদ ও
কৃতজ্ঞতা জানান।
অনুষ্ঠান
স্বাগত বক্তব্য রাখেন চবি প্রক্টর প্রফেসর ড. হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী। শুভেচ্ছা বক্তব্য
রাখেন চবি রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) ভিপি ইব্রাহীম হোসেন রনি, চাকসুর জিএস সাঈদ বিন হাবিব
ও চাকসুর এজিএস আইয়ুবুর রহমান তৌফিক।
এছাড়াও
‘এসো প্রাণের উৎসবে, জাগো নব আনন্দে’ এই প্রতিপাদ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের
উদ্যোগে পহেলা বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ বাঙালির শতবছরের ঐতিহ্যবাহী বাংলা নববর্ষ দিনব্যাপী
বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে উদযাপন করা হয়। কর্মসূচির মধ্যে ছিল-বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের
বৈশাখী শোভাযাত্রা, আলোচনা পর্ব, বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্যদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক
অনুষ্ঠান, পুতুল নাচ, নাগরদোলা, বলি খেলা, বউচি খেলা ও কাবাডি খেলা। এছাড়াও দিনব্যাপী
বৈশাখী ও বিশেষ উদ্যোক্তা মেলা অনুষ্ঠিত হয়।