প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৪ এপ্রিল ২০২৬ ২০:২৫ পিএম
আপডেট : ১৪ এপ্রিল ২০২৬ ২০:৩০ পিএম
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলা সদরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে মঙ্গলবার বিকালে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ বরণ উদযাপনের বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
নববর্ষ উৎসব আমাদের জাতীয় উৎসব, আমাদের জাতীয় চেতনা, ঐতিহ্য ও ঐক্যের প্রতীক। গ্রামীণ জনপদের প্রাণের এই উৎসব আমাদের সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ জোরদার করে, এমনটাই বলেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স।
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলা সদরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে মঙ্গলবার বিকালে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ বরণ উদযাপনের বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন ।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বাংলা নববর্ষের সাংস্কৃতিক, সামাজিক গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “এ উৎসব আমাদের জাতীয় উৎসব এবং আমাদের জাতীয় চেতনা, ঐতিহ্য ও ঐক্যের প্রতীক। গ্রামীণ জনপদের প্রাণের এই উৎসব মানুষে মানুষে সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ জোরদার করে।”
তিনি বলেন , “পহেলা বৈশাখ আমাদের প্রাণের উৎসব, যা ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষকে এক সুতোয় গেঁথে দেয়। এই দিনে আমরা পুরোনো সকল গ্লানি, দুঃখ-কষ্ট ভুলে নতুন আশা, নতুন স্বপ্ন আর সম্ভাবনার পথে যাত্রা শুরু করি। আজকের এই উৎসব শুধু আনন্দের নয়, এটি আমাদের জন্য একটি অঙ্গীকারের দিনও বটে।“
“আমরা প্রতিজ্ঞা করি—আমাদের সমাজে সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব”, বলেন সালেহ প্রিন্স।
বর্তমান বিশ্ব নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি—অর্থনৈতিক চাপ, সামাজিক অস্থিরতা এবং মূল্যবোধের অবক্ষয় আমাদের সমাজকেও প্রভাবিত করছে। এই প্রেক্ষাপটে আমাদেরকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে, দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধকে শক্তভাবে ধারণ করতে হবে।
তিনি তাঁর বক্তব্যে সমসাময়িক জাতীয় রাজনীতির বিভিন্ন ইস্যুও তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কর্তৃক আজ টাঙ্গাইলে কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে কৃষক কার্ড প্রদান কর্মসূচি উদ্বোধনের কথা উল্লেখ করে বিএনপির এই যুগ্ম মহাসচিব বলেন , জনগণের নির্বাচিত সরকারের বয়স দুইমাস যেতে না যেতেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনের পূর্বে জাতির কাছে প্রদত্ত অংগীকার একের পর এক বাস্তবায়ণ করে জনগণের ভাগ্য পরিবর্তন এবং গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দিতে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন ।
দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য , জামায়াত - এনসিপির নেতৃত্বে কয়েকটি দল অহেতুক উস্কানীমুলক ও অসত্য বক্তব্য দিয়ে রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চাচ্ছে ।
এসময় তিনি একাত্তর ও বিএনপি নিয়ে বিরোধী দলীয় নেতার বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে বলেন ,
“একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ কোনো দল, গোষ্ঠী বা ব্যক্তির নয়, জমায়াত ছাড়া সমগ্র বাংলাদেশের জনগণের সম্পদ । জামায়াত ছাড়া একাত্তরের চেতনা দেশের সব রাজনৈতিক দল ও জনগণের মাঝে বিদ্যমান। বিএনপি সেই চেতনাকে ধারণ করে । জামায়তের মধ্যে সেই চেতনা নেই বলে তারা বিএনপিকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায় । জামায়াতের রাজনীতি একাত্তরের চেতনা ও আবেগের বিরোধী । এজন্য একাত্তরের প্রসঙ্গ এলেই তারা নার্ভাস হয়ে পড়ে। তাদের মুখে একাত্তর শোভা পায় না ।
তিনি আরও বলেন, দেশের জনগণ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে এবং সেই চেতনা থেকেই গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচারের পক্ষে অবস্থান নেয়। প্রিন্স তার বক্তব্যে বিএনপিকে আন্দোলনের সুবিধাভোগী উল্লেখ করে এনসিপির প্রধান নাহিদ ইসলাম-এর মন্তব্যেরও সমালোচনা বলেন,
“বিএনপি কোনো আন্দোলনের সুবিধাভোগী নয়, বরং দেশের সকল গণঅভ্যুত্থান ও আন্দোলনের রূপকার এবং নেতৃত্বদানকারী শক্তি। “
তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াত ও এনসিপির জোটের নেতারা অসংলগ্ন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্য দিয়ে রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় নির্বাচন বিলম্বিত করে দীর্ঘমেয়াদি অনির্বাচিত শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার যে পরিকল্পনা তারা করেছিল, নির্বাচনের মাধ্যমে তা ব্যর্থ হওয়ায় এখন তারা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে চাইছে।
প্রিন্স বলেন, “জনগণের ভোটে প্রতিষ্ঠিত গণতান্ত্রিক সরকার এবং দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের যে লড়াই তারেক রহমান শুরু করেছেন, তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র চালানো হচ্ছে। কিন্তু এ ধরনের অপচেষ্টা জনগণ কখনোই মেনে নেবে না।”
অনুষ্ঠানে লোকজ সংস্কৃতির বিভিন্ন পরিবেশনা ও নাটক মঞ্চস্থ হয় ।
অনুষ্ঠানে হালুয়াঘাট উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আসলোম মিয়া বাবুল , হালুয়াঘাট পৌর বিএনপির আহ্বায়ক হানিফ মোহাম্মদ শাকের উল্লাহ , নাট্যকার আব্দুস সামাদ , লোকজ শিল্পী হাবিবুর রহমান , বিএনপি নেতা আবদুল জলিল , যুবদল নেতা তারিকুল ইসলাম চঞ্চল বক্তব্য রাখেন।
এর আগে এমরান সালেহ প্রিন্স বাংলা নববর্ষ উপলক্ষ্যে আজ সকালে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসন আয়োজিত শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান , ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন আয়োজিত পান্তা উৎসব ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং দুপুরে ময়মনসিংহ ক্লাব আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দেন ।