নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৩ এপ্রিল ২০২৬ ২২:২১ পিএম
আপডেট : ১৩ এপ্রিল ২০২৬ ২২:৪১ পিএম
প্রকৌশলী তরিকুল ইসলামকে বাঁশ নিয়ে তাড়া করার দৃশ্য, ইনসেটে তরিকুল ইসলাম। কোলাজ; প্রতিদিনের বাংলাদেশ
সড়কের কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার হচ্ছে, এমন অভিযোগ করায় প্রকৌশলীকে বাঁশ দিয়ে পেটানোর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ঠিকাদারের বিরুদ্ধে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বিদ্যাকুট ইউনিয়নের মেরকুটা টু শিবপুর হাইওয়ে কলেজ রোড পর্যন্ত চলছে ৪.৫ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ কাজ। স্থানীয়দের দাবি, এলজিইডির বাস্তবায়নে নির্মাণাধীন সড়কের গাইডওয়াল নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে।
তাদের অভিযোগ, বিদ্যাকুট ইউপির সেমন্তঘর কুমারবাড়ি থেকে আইদূর ভুঁইয়া বাড়ি পর্যন্ত এবং ভুঁইয়া বাড়ির দিঘির পাড় রক্ষায় নির্মাণাধীন গাইড ওয়াল বা প্রতিরক্ষা দেয়াল নির্মাণে নিম্নমানের রড, সিমেন্ট ও পাথর ব্যবহার হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন বাড়ি থেকে সংগ্রহ করা পুরাতন ইট ও পুরাতন রডও ব্যবহার করা হচ্ছে।
এলজিডি বলছে, রাজশাহীর সড়ক নির্মাণের কার্যাদেশ পায় বরেন্দ্র কন্সট্রাকশন লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠান। এলজিইডির আওতায় নির্মীয়মাণ এ সড়কটির প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১৪ কোটি ৬৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা।
সড়ক নির্মাণে নিম্নমান কাজের অভিযোগ ওঠায় সোমবার ঢাকা থেকে এলজিইডির একটি প্রতিনিধিদলসহ স্থানীয় প্রকৌশলীরা সোমবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান। এ সময় কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলাকে কেন্দ্র করে উপসহকারী প্রকৌশলী তরিকুল ইসলামকে প্রতিনিধিদলের সামনেই স্থানীয় ঠিকাদার লোকমান হোসেন বাঁশ দিয়ে বেধড়ক পেটান। ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে এই ঘটনার এক ভিডিও।
ভিডিওতে দেখা গেছে, প্রকৌশলী তরিকুল ইসলামের সঙ্গে ঠিকাদার লোকমান হোসেনের কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে লোকমান তাঁকে পেটাতে উদ্যত হন। এক পর্যায়ে তিনি বাঁশ নিয়ে ওই প্রকৌশলীকে তাড়া করেন এবং তাকে পিটিয়ে আহত করেন।
পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহত প্রকৌশলীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় সন্ধ্যায় তরিকুল ইসলাম বাদী হয়ে নবীনগর থানায় দুইজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
উপসহকারী প্রকৌশলী তরিকুল ইসলাম বলেন, “কাজের অনিয়ম ধরায় ঠিকাদার এই হামলা করেছে”।
নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, সংবাদ প্রাপ্তির পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রকৌশলীকে উদ্ধার করেছে। এই ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
উপজেলা প্রকৌশলী মো. ফেরদৌস আলী প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, “এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পূর্ববর্তী দিনে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় আমরা কাজটি স্থগিত করে দিয়েছিলাম”।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদুল হাসান বলেন, “প্রকৌশলীকে লাঞ্ছিতের ঘটনা শোনার সাথে সাথে আমি নবীনগর থানার অফিসার ইনচার্জকে অবগত করি এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে”।