নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৩ এপ্রিল ২০২৬ ১৭:২৯ পিএম
নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিভিন্ন ওয়ার্ড পরিদর্শন করেন এবং ভর্তি রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন এমপি আব্দুল মান্নান। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট আব্দুল মান্নান বলেছেন, নবীনগরে স্বাস্থ্যসেবায় কোনো সিন্ডিকেট, দালাল বা অনিয়ম চলতে দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবা হবে জনগণের অধিকার, এখানে কোনো প্রভাব, পরিচয় কিংবা স্বজনপ্রীতির সুযোগ নেই। বিএনপির কোনো নেতাকর্মী বা আত্মীয় পরিচয় দিয়ে কেউ অপকর্ম করলে তাদেরও ছাড় দেওয়া হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সম্মেলন কক্ষে সোমবার দুপুরে অনুষ্ঠিত উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগীয় সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ হাবিবুর রহমান।
এমপি বলেন, ‘আমি প্রতিশ্রুতি দিতে চাই—আমি যতদিন আপনাদের প্রতিনিধি থাকবো, ততদিন সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে মানুষের সেবা দিয়ে যাবো। আপনারাও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন। কোনো অনিয়ম, দুর্নীতি বা হয়রানি বরদাস্ত করা হবে না। কাউকে অন্যায় সুবিধা দেওয়া যাবে না, আবার কেউ অন্যায় করার সুযোগও পাবে না।’
নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার জন্য কাজ চলছে জানিয়ে এমপি আরও বলেন, উপজেলার মানুষ যাতে উন্নত ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পায়, সে লক্ষ্যেই সরকার ও তিনি সমন্বিতভাবে কাজ করছেন। হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করে চিকিৎসা সেবা আরও কার্যকর করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ নোমান মিয়া, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাহমুদুল হাসান এবং আখাউড়া স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ হিমেল খান। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মলাই মিয়া, জেলা বিএনপির সদস্য মাসুদুর রহমান মাসুদ, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আসরাফ হোসেন রাজু, উপজেলা মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক লাকি আক্তারসহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
সভা শেষে এমপি আব্দুল মান্নান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিভিন্ন ওয়ার্ড পরিদর্শন করেন এবং ভর্তি রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন। এসময় তিনি রোগীদের চিকিৎসা সেবা, ওষুধ সরবরাহ, ডাক্তার-নার্সদের উপস্থিতি এবং হাসপাতালের সার্বিক সুবিধা-অসুবিধার বিষয়ে খোঁজ নেন। রোগীদের অভিযোগ ও পরামর্শ মনোযোগ দিয়ে শুনে তা দ্রুত সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন তিনি।