দুর্গাপুর (নেত্রকোণা) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৩ এপ্রিল ২০২৬ ১৬:১৮ পিএম
হাত দিয়েই তোলা যাচ্ছে সড়কের পিচ। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
নেত্রকোণার দুর্গাপুরে সড়কের পিচ ঢালাইয়ের মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় উঠে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
উপজেলার সদর ইউনিয়নের চারিয়া থেকে মাকড়াইল বাজার পর্যন্ত রাস্তার পিচ ওঠে যাওয়ার এক ভিডিও শনিবার ফেসবুকে প্রকাশিত হয়। এরপরই বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়।
ভিডিওতে দেখা যায়, এক যুবক হাত দিয়েই অনায়াসে সড়কের পিচ তুলে ফেলছেন। এ সময় আশপাশের লোকজন সেখানে জড়ো হয়ে নিম্নমানের কাজের প্রতিবাদ জানান।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের দাবি ছিল। সম্প্রতি কাজ শুরু হলে এলাকাবাসী খুশি হলেও কাজ শেষ হওয়ার আগেই নিম্নমানের নির্মাণের অভিযোগ ওঠে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দায়সারাভাবে কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে এবং নামমাত্র বিটুমিন ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে অল্প সময়েই পিচ উঠে যাচ্ছে। তারা বলেন, এভাবে কাজ চলতে থাকলে সড়কটি বেশিদিন টিকবে না। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও তদারকির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর আওতায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১ কোটি ৩৮ লাখ ৫ হাজার টাকা ব্যয়ে ১ হাজার ৭০ মিটার দৈর্ঘ্যের সড়কটি সংস্কার করছে ‘মেসার্স তাজ উদ্দিন ফরাস’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কাজের মেয়াদ চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত নির্ধারিত রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. জহিরুল ইসলাম জহির বলেন, “মাত্র পাঁচ দিনেই পিচ উঠে যাচ্ছে। এতে আমরা হতাশ”।
আরেক বাসিন্দা তাজ্জত আলী বলেন, “নিম্নমানের কাজের প্রতিবাদ করলে ঠিকাদারের লোকজন উল্টো হুমকি দেয়”।
চারিয়া গ্রামের আব্দুল হামিদ বলেন, “এই সড়ক এক মাসও টিকবে না।”
চারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জহিরুল হক বলেন, “সরকার কোটি টাকা ব্যয় করছে, কিন্তু কাজের মান খারাপ হলে তা শুধু অর্থের অপচয়”।
এ বিষয়ে উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “কার্পেটিং কাজের পরদিনই সমস্যা ধরা পড়ায় কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে এবং ঠিকাদারকে পুনরায় মানসম্মতভাবে কাজ সম্পন্নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে”।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজা আফসানা বলেন, “বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না”।
তবে এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কাউকে পাওয়া যায়নি।