শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ এপ্রিল ২০২৬ ১৪:৫৬ পিএম
আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০২৬ ১৫:৩৯ পিএম
গাজীপুরে একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম দিয়েছেন মাসুমা-কাজল দম্পতি। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম দিয়েছেন মাসুমা। তাদের মধ্যে তিন জন ছেলে ও দুজন মেয়ে। মা ও নবজাতকেরা সুস্থ আছেন।
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে গত ৫ এপ্রিল পাঁচ সন্তানের জন্ম দিয়েছেন।
শুক্রবার বিকালে একসঙ্গে পাঁচ নবজাতককে নিয়ে কাজল-মাসুমা দম্পতি কাপাসিয়ার গ্রামের বাড়িতে বাড়ি ফিরেছেন।
মাসুমা কাপাসিয়ার উপজেলার টোক ইউনিয়নের দীঘাবর গ্রামের কাজল মিয়ার স্ত্রী।
এর আগে মাসুমা-কাজল দম্পত্তির ৯ বছর বয়সী এক মেয়ে আছে। কাপাসিয়ার টোক ইউনিয়নের দীঘাবর গ্রামের এই গৃহবধূ এখন পুরো এলাকার ভালোবাসার কেন্দ্রবিন্দু।
মাসুমার স্বামী কাজল মিয়া বলেন, এমন ঘটনা যেমন বিরল, তেমনি ঝুঁকিপূর্ণও। জন্মের পরপরই শিশুদের শারীরিক অবস্থা নিয়ে দুশ্চিন্তা ছিল। কখনও ভাবিনি স্ত্রী আর সন্তানদের নিয়ে সুস্থভাবে বাড়ি ফিরতে পারব। আল্লাহর রহমতে সবাই ভালো আছি। এটা আমার জীবনের সবচেয়ে আনন্দের দিন।
তিনি বলেন, ৫ এপ্রিল বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে সিজারিয়ান অপারেশনের পর নবজাতকেরা ও তাদের মা ৮ এপ্রিল পর্যন্ত চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে ছিল। ৯ এপ্রিল ওই হাসপাতালের এনআইসিইউ বিভাগের চিকিৎসকের পরামর্শে ও নির্দেশনা অনুযায়ী মা ও নবজাতকদের কাপাসিয়ার বেলাসী গ্রামের মডিউল কমিউনিটি ক্লিনিকে আইসোলেশনে রাখা হয়। পরে ক্লিনিকের চিকিৎসকের পরামর্শে শুক্রবার বিকালে মাসহ নবজাতকদেরকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।
কাপাসিয়ার বেলাসী গ্রামের মডিউল কমিউনিটি ক্লিনিকের চিকিৎসক কামরুজ্জামান সেলিম জানান, একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম দেওয়া অত্যন্ত জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ একটি বিষয়। তবে সময়মতো সঠিক চিকিৎসা পাওয়ায় বর্তমানে মা ও নবজাতক শিশুরা সুস্থ রয়েছে।
মডিউল কমিউনিটি ক্লিনিকের ফার্মাসিস্ট সাত্তার মিয়া বলেন, বিরল এই ঘটনার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়। অনেকে ক্লিনিকে ভিড় করছেন নবজাতকদের এক নজর দেখতে।
মডিউল কমিউনিটি ক্লিনিকের ব্যবস্থাপক (ম্যানেজার) নারায়ণ চন্দ্র বলেন, নবজাতকদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে বিশেষ চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী উচ্চতর চিকিৎসা কেন্দ্রে স্থানান্তরের প্রস্তুতি নেওয়া হবে।
মডিউল কমিউনিটি ক্লিনিকের প্রতিষ্ঠাতা ডা. রুহুল আমিন জানান, তার হাসপাতালে আইসোলেশনে রেখে নবজাতকদের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হয়। এক সঙ্গে জন্ম নেওয়া নবজাতকদের মধ্যে একজনের শারীরিক অবস্থা কিছুটা জটিল ছিল। পরে স্বাভাবিক হলে পরিবারের লোকজন তাদের নিজের বাড়িতে নিয়ে যায়। বাড়িতে যদি মা ও নবজাতকদের কোনও সমস্যা হয় তাহলে সাথে সাথে যেন হাসপাতালে চলে আসে- সে ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।