চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ১০ এপ্রিল ২০২৬ ১৬:৪৫ পিএম
আপডেট : ১০ এপ্রিল ২০২৬ ১৭:৩৬ পিএম
‘বাংলার জয়যাত্রা’ জাহাজ। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে দীর্ঘ ৪০ দিন আটকে থাকার পর দেশের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েও আবারও বাধার মুখে পড়েছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি) এর জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’। যুদ্ধবিরতির পর যাত্রা শুরু করলেও ইরানের অনুমতি না পাওয়ায় হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে পারেনি জাহাজটি।
বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক শুক্রবার দুপুরে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ফলে জাহাজটি পুনরায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজা বন্দরে ফিরে যেতে পারে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
তিনি বলেন, “সব ধরনের নিয়ম মেনেই অনুমতি চাওয়া হয়েছিল, কিন্তু ইরান তা গ্রহণ করেনি। কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। নাবিক ও জাহাজের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় আপাতত জাহাজটিকে শারজা বন্দরে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে”।
বিএসসি সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার সৌদি আরবের রাস আল খায়ের বন্দর থেকে রওনা দিয়ে প্রায় ৪০ ঘণ্টা সমুদ্রপথ অতিক্রম করে শুক্রবার সকালে হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি পৌঁছে জাহাজটি। নিয়ম অনুযায়ী ইরান সরকারের কাছে পারাপারের অনুমতি চাওয়া হলে তা প্রত্যাখ্যান করা হয়।
জাহাজটিতে বর্তমানে ৩১ জন নাবিক রয়েছেন। দীর্ঘ সময় আটকে থাকলেও তাঁদের নিরাপত্তা ও খাবারের বিষয়ে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিএসসি। নাবিকদের মনোবল ধরে রাখতে দৈনিক খাবার ভাতা জনপ্রতি ৭ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১২ ডলার করা হয়েছে। পাশাপাশি মূল বেতনের সমপরিমাণ যুদ্ধকালীন ঝুঁকি ভাতাও প্রদান করা হচ্ছে।
জাহাজটিতে প্রতিদিন ১৮ টন লোনা পানি পরিশোধনের সক্ষমতা থাকলেও জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য বর্তমানে রেশনিংয়ের মাধ্যমে দৈনিক ব্যবহার ৬ টনে নামিয়ে আনা হয়েছে।
গত ২ ফেব্রুয়ারি ভারত থেকে পণ্য নিয়ে হরমুজ প্রণালি হয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করে ‘বাংলার জয়যাত্রা’। ২৭ ফেব্রুয়ারি দুবাইয়ের জেবেল আলী বন্দরে পৌঁছানোর পরদিনই মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। ১১ মার্চ পণ্য খালাস শেষ হলেও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে জাহাজটি সেখানেই আটকা পড়ে ছিল।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, কুয়েত থেকে পণ্য নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করার কথা ছিল জাহাজটির। তবে বর্তমান সামরিক ও কূটনৈতিক অস্থিরতায় ৩৭ হাজার টন সার নিয়ে নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছানো এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।