ইসমাইল মাহমুদ, মৌলভীবাজার
প্রকাশ : ১০ এপ্রিল ২০২৬ ১০:৪৯ এএম
আপডেট : ১০ এপ্রিল ২০২৬ ১২:৩০ পিএম
প্রাণিজগতের অন্যতম দৃষ্টিনন্দন সাপ ‘কালনাগিনী’। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
প্রাণিজগতের অন্যতম দৃষ্টিনন্দন সাপ ‘কালনাগিনী’ এখন অস্তিত্ব সংকটে। মৌলভীবাজারে একসময় এ সাপের আধিক্য থাকলেও বর্তমানে খুব একটা চোখে পড়ে না। লোককাহিনী ও চলচ্চিত্রে সাপটিকে অলৌকিক ও প্রাণঘাতী হিসেবে চিত্রায়িত করা হলেও বাস্তবে এটি মৃদু বিষধর এবং মানুষের জন্য মোটেও প্রাণঘাতী নয়।
বাংলার লোকগাথা, বেহুলা-লখিন্দরের আখ্যান এবং ‘নাগিন’ সিরিজের অসংখ্য ব্যবসাসফল সিনেমার কারণে কালনাগিনী সাধারণ মানুষের কাছে রহস্যময় ও আতঙ্কের নাম। ‘নাগিন’, ‘সতী নাগকন্যা’ বা ‘কালনাগিনীর প্রেম’-এর মতো সিনেমাগুলো জনমনে এই ধারণা গেঁথে দিয়েছে যে, কালনাগিনীর দংশনে মৃত্যু অনিবার্য। কিন্তু প্রাণী গবেষকদের মতে, এর বৈজ্ঞানিক নাম ‘ক্রাইসোপেলিয়া অর্নাটা’, যা মূলত কলুব্রিদে পরিবারের একটি নির্বিষপ্রায় সাপ। শরীর বাঁকিয়ে এক গাছ থেকে অন্য গাছে লাফিয়ে যাওয়ার (গ্লাইডিং) অদ্ভুত ক্ষমতার কারণে একে ‘উড়ন্ত সাপ’ বলা হয়। এর বিষদাঁত মুখের পেছনের দিকে থাকায় এটি কামড়ালেও মানুষের শরীরে সহজে বিষ প্রবেশ করতে পারে না।
বাংলাদেশ বন বিভাগের বন্য প্রাণী সংরক্ষণ কর্মকর্তা জোহরা মিলা জানান, কালনাগিনী দিবাচর ও শান্ত স্বভাবের। এরা সাধারণত টিকটিকি, ব্যাঙ, ছোট পাখি ও কীটপতঙ্গ খেয়ে বাস্তুসংস্থানের ভারসাম্য রক্ষা করে। ১০০ থেকে ১৭৫ সেন্টিমিটার দীর্ঘ এই সাপটি মার্চ থেকে জুলাই মাসে ডিম দেয়। অথচ সিনেমার কাল্পনিক ভয়াবহতার প্রভাবে মানুষ একে দেখা মাত্রই বিষধর ভেবে পিটিয়ে মেরে ফেলে। সচেতনতা কর্মী কামরুজ্জামান বাবু ও প্রসেনজিৎ দেববর্মা জানান, নাগনাগিনী বলতে আলাদা কিছু নেই, সুন্দরী কালনাগিনীকেই ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়।
সম্প্রতি মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক আবাসিক কোয়ার্টার থেকে একটি কালনাগিনী উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ বন্য প্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন। পরে সেটিকে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে অবমুক্ত করা হয়। বন্য প্রাণী কর্মীদের মতে, কালনাগিনী সম্পর্কে মানুষের মনের ভ্রান্ত ধারণা ও কুসংস্কার দূর না হলে আগামী এক দশকে এই রূপসী সাপটি দেশ থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাবে। প্রকৃতির এই বন্ধুকে রক্ষায় সিনেমার কাল্পনিক ভীতি ছেড়ে বৈজ্ঞানিক তথ্যে সচেতন হওয়া এখন সময়ের দাবি।