জিয়ানগর (পিরোজপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ এপ্রিল ২০২৬ ১৯:১২ পিএম
মুক্তা বেগম ও তার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসন, পাশেই গতকালের ভাইরাল হওয়া সেই ছবি। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
ইউনিয়ন পরিষদের বারান্দায় তিন সন্তানকে রেখে যাওয়ার পর ভাইরাল হওয়া জিয়ানগরের সেই অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসকের নির্দেশে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে পরিবারটিকে খাদ্য সহায়তা ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলার চণ্ডিপুর ইউনিয়ন পরিষদে। স্বামী পরিত্যক্তা গৃহবধূ মুক্তা বেগম (২৭) দীর্ঘদিন ধরে চরম অভাব-অনটনে দিন কাটাচ্ছিলেন। প্রায় এক বছর আগে তার স্বামী আমান উল্লাহ তিন সন্তানকে ফেলে দ্বিতীয় বিয়ে করে অন্যত্র বসবাস শুরু করেন। এরপর থেকে সন্তানদের ভরণপোষণের দায়িত্ব একাই বহন করছিলেন মুক্তা।
অভাবের তাড়নায় মাঝে মাঝে ইউনিয়ন পরিষদে সহায়তার জন্য যেতেন তিনি। গত বুধবার সকালে তিন শিশু সন্তানকে ইউনিয়ন পরিষদে রেখে নিজে উধাও হয়ে যান তিনি।
বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তা পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক আবু সাঈদের নজরে আসে। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে জিয়ানগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
পরবর্তীতে প্রশাসনের উদ্যোগে মুক্তা বেগমকে খুঁজে বের করা হয় এবং তার পরিবারের জন্য সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নগদ ৩ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ৩০ কেজি চাল, ৪ কেজি ডাল, ৪ লিটার তেল ও ২ কেজি চিনি দেওয়া হয়।
পরিবারটির আয়ের পথ নিশ্চিত করতে মুক্তা বেগমকে একটি সেলাই মেশিনও প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি অন্যান্য সহায়তাও দেওয়া হয়েছে।
চণ্ডিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মঞ্জু বলেন, “মুক্তার স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করে আলাদা থাকেন। তার আয়ের একমাত্র সম্বল সেলাই মেশিনটিও নিয়ে নেওয়ায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। জেলা প্রশাসকের নির্দেশে তাকে খুঁজে বের করে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হয়েছে”।
জিয়ানগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মো. হাফিজুর রহমান বলেন, “জেলা প্রশাসকের নির্দেশে অসহায় পরিবারটিকে তাৎক্ষণিক খাদ্য সহায়তা, নগদ অর্থ ও সেলাই মেশিন প্রদান করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও তাদের পুনর্বাসনে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও সহায়তা দেওয়া হবে”।