কাপ্তাই (রাঙামাটি) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ এপ্রিল ২০২৬ ১৪:৪৯ পিএম
আপডেট : ০৯ এপ্রিল ২০২৬ ১৪:৫০ পিএম
রাইখালী কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে জাবুটিকাভা গাছ পরিদর্শন করছেন প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ জিয়াউর রহমান। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আমেরিকার জাবুটিকাভা ফলের চাষ শুরু হয়েছে। রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার রাইখালী পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে এ ফলের সফল উৎপাদন দেখা গেছে।
বর্তমানে গাছগুলোতে ভালো ফলন হয়েছে। দেখতে আকর্ষণীয় এই ফলটি যেমন সুস্বাদু, তেমনি পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ। বছরের এমন সময়ে এটি উৎপাদিত হয়, যখন অন্যান্য ফলের সরবরাহ কম থাকে।
কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ জিয়াউর রহমান জানান, জাবুটিকাভা মূলত ব্রাজিলের মিনাস গেরাইস অঞ্চলের আদিবাসী ফল। তবে বর্তমানে আর্জেন্টিনা, প্যারাগুয়ে, বলিভিয়া ও পেরুতেও এর চাষ হচ্ছে।
তিনি বলেন, এই ফল সরাসরি গাছের কাণ্ড ও ডালে ধরে। দেখতে কালো আঙুরের মতো হলেও এর গঠন ও বৈশিষ্ট্য ভিন্ন।
জাবুটিকাভা গ্রীষ্মমণ্ডলীয় জলবায়ুর উদ্ভিদ হওয়ায় বাংলাদেশের পাহাড়ি ও দক্ষিণাঞ্চলের আবহাওয়া এর জন্য উপযোগী। গবেষণায় এটি একটি সম্ভাবনাময় উচ্চমূল্যের ফল হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
গত ছয় বছরের গবেষণায় রাইখালী কেন্দ্রে এই ফলের চাষে সফলতা এসেছে। ভবিষ্যতে এটিকে জাত হিসেবে অবমুক্ত করে দেশের কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান জানান, একটি গাছে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ থেকে ৬ হাজার ফল ধরে। প্রতিটি ফলের ওজন গড়ে সাড়ে ৭ গ্রাম এবং প্রতি গাছে প্রায় ৩৩ কেজি ফল পাওয়া যায়।
তিনি আরও জানান, এই গাছে তেমন রোগবালাই দেখা যায় না। কাঁচা অবস্থায় ফল গাঢ় সবুজ এবং পাকার পর বেগুনি-কালো রং ধারণ করে।
জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে গাছে ফুল আসে এবং ২৫ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে ফল পাকে। মার্চ-এপ্রিল মাসে ফল সংগ্রহ করা যায়।
পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এই ফলে রয়েছে ভিটামিন সি, আয়রন, জিংক ও ম্যাঙ্গানিজ। এটি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ, হৃদরোগ প্রতিরোধ ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক।
প্রসঙ্গত, ১৯৭৬ সালে কর্ণফুলী নদীর মোহনায় প্রায় ১০০ একর জমিতে প্রতিষ্ঠিত হয় রাইখালী পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্র। পাহাড়ি অঞ্চলের উপযোগী ফসল ও কৃষি প্রযুক্তি উদ্ভাবনে প্রতিষ্ঠানটি কাজ করে যাচ্ছে।