× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ডুবে গেছে বিস্তীর্ণ হাওরের ফসল

আশরাফুল ইসলাম কহিনুর, হবিগঞ্জ

প্রকাশ : ০৯ এপ্রিল ২০২৬ ১১:৩৮ এএম

আপডেট : ০৯ এপ্রিল ২০২৬ ১২:০৬ পিএম

নেত্রকোনার মদন উপজেলার দেওসহিলা হাওরের বৃষ্টির পানিতে ডুবে গেছে ধান। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

নেত্রকোনার মদন উপজেলার দেওসহিলা হাওরের বৃষ্টির পানিতে ডুবে গেছে ধান। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

হবিগঞ্জের হাওরে অকাল বানের পানিতে তলিয়ে গেছে বিস্তীর্ণ হাওরের ফসল। গত কয়েক দিনে দফায় দফায় বৃষ্টিতে হাওরে পানি বৃদ্ধি পায়। এতে তলিয়ে গেছে নবীগঞ্জ, বানিয়াচং, আজমিরীগঞ্জ ও লাখাই উপজেলার বিভিন্ন হাওরের জমির ধান।

এতে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। গোলায় ধান তোলা নিয়ে তাদের মধ্যে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। কেউ আবাদ করেছেন জমি বর্গা নিয়ে, কেউবা আবার দাদনে টাকা নিয়ে আবাদ খরচ মিটিয়েছেন। এসব চাষিরা এখন চোখে-মুখে শর্ষে ফুল দেখছেন।

কৃষি বিভাগের হিসেবে ইতোমধ্যে জেলায় প্রায় ৩০০ হেক্টর জমির ফসল পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। সহসা এ পানি নামারও কোনো সম্ভাবনা দেখছে না কৃষি বিভাগ। যদিও বাস্তবে ক্ষতিগ্রস্ত জমির পরিমাণ আরও কয়েকগুণ বেশি হবে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের হিসেব অনুযায়ী, ইতোমধ্যে জেলায় প্রায় ১০ হাজার বিঘা বা সাড়ে ১৩০০ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বানিয়াচং উপজেলার সুজাতপুর গ্রামের বাসিন্দা কৃষক মাহবুবুর রহমান বলেন, কয়েক দিনের বৃষ্টিতে তাদের এলাকায় উগলী, বাতাসর ও বালি হাওরের বিস্তীর্ণ জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। সুজাতপুর, ইকরাম, শতমুখা মিলিয়ে কয়েকটি হাওরের প্রায় ২ হাজার বিঘার মতো জমির ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এখন ধান পাকার সময় হয়েছিল। এ মুহূর্তে ধান পানিতে তলিয়ে যাওয়ার ফলে পচন ধরতে পারে। আমরা যদি এবার ধান তুলতে না পারি, তবে খেয়ে বাঁচা কঠিন হয়ে পড়বে।

ইকরাম গ্রামের বাসিন্দা কৃষক আহলাদ মিয়া জানান, ঋণ করে ৮ বিঘা জমি বর্গা নিয়েছেন। বিঘাপ্রতি দিয়েছেন ৩ হাজার ৫০০ টাকা। এসব জমিতে তিনি বোরো আবাদ করেছেন। ফলনও ভালো হয়েছিল। কিন্তু কয়েক দিনের বৃষ্টিতে সব ফসল এখন পানিতে নিমজ্জিত হয়ে গেছে। ফসল হারিয়ে এখন দিশাহারা হয়ে পড়েছেন তিনি। ঋণ পরিশোধ আর পরিবারের বছরের খাবার জোগান দেওয়া নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তার।

সুজাতপুর ইউপি চেয়ারম্যান সাদিকুর রহমান বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে রত্না নদীর বাঁধ উপচে উগলী, বাতাসর ও বালি হাওরে পানি ঢুকেছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন জমির ধান পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। এরই মধ্যে কৃষকদের প্রায় ৭ হাজার বিঘার মতো জমির কাঁচা ধান পানিতে তলিয়ে গেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সায়েদুর রহমান বলেন, দুয়েকটি হাওর আমাদের জাইকা প্রকল্পের মাধ্যমে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সে ক্ষেত্রে হাওরের সংযোগ খাল খননও এ প্রকল্পের অধীনে আছে। আমরা চেষ্টা করছি এ প্রকল্পের মাধ্যমে যেন আরও দুয়েকটি হাওর যুক্ত করতে পারি। সংযোগ খালগুলো খনন করলে পানি হাওরে জমে থাকবে না।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আকতারুজ্জামান বলেন, হাওরে যে পানি জমে আছে তা বৃষ্টির পানি। এটি নদী থেকে আসা পানি নয়। তা ছাড়া নদীর পানি হাওরের পানির চেয়ে ওপরে আছে। যদি হাওরের পানি কমানোর জন্য নদীর বাঁধ কাটা হয় তবে উল্টো নদীর পানি হাওরে ঢুকবে। এ অবস্থায় সহসা হাওরের পানি কমার কোনো সম্ভাবনা আপাতত নেই। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। একটি নির্দিষ্ট সময় অতিক্রম না হওয়া পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতি হিসেব করা যায় না। তবে আমরা নিয়মিত হাওর পর্যবেক্ষণ করছি।

কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, গত কয়েক দিনের বর্ষণে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত ২৮১ হেক্টর জমির ফসল পানিতে সম্পূর্ণ নিমজ্জিত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি নিমজ্জিত হয়েছে বানিয়াচং উপজেলায় ২১৮ হেক্টর।

আজমিরীগঞ্জে ১৮, নবীগঞ্জে ২০ ও লাখাই উপজেলায় ২৫ হেক্টর। তবে প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। গত ৬ এপ্রিল রাতভর বৃষ্টিপাতে কি পরিমাণ জমির ফসল পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে তার তথ্য এখনও নিরূপণ করা হয়নি।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, বানিয়াচং, আজমিরীগঞ্জ, নবীগঞ্জ ও লাখাই উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা হাওর বেষ্টিত। এসব এলাকার অধিকাংশ জনগোষ্ঠী কৃষির ওপর নির্ভরশীল। এর মধ্যে বোরো আবাদ অন্যতম। প্রায় প্রতি বছরই অতিবৃষ্টি, বানের পানি, নদীগুলোতে পানি বৃদ্ধি পেয়ে বাঁধ ভেঙে এসব এলাকায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। প্রতি বছরই সরকার এসব এলাকায় কোটি কোটি টাকা খরচ করে নানা প্রকল্প নেওয়া হয়। কিন্তু স্থায়ী টেকসই কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয় না। চলতি বছর চৈত্র মাসের শুরু থেকেই বৃষ্টিপাত হতে থাকে। প্রায় প্রতিদিনই ঝড়বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টির পানিতে ইতোমধ্যেই জেলার বিস্তীর্ণ হাওরের জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। ধারণা করা হচ্ছে ইতোমধ্যে প্রায় ১০ হাজার বিঘা বা সাড়ে ১৩০০ হেক্টর জমির ধান পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, ধানের শীষ বের হওয়ার এ পর্যায়ে ধানক্ষেত পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ফসল ঘরে তোলার আর কোনো সম্ভাবনা নেই। এতে তারা বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা