প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ এপ্রিল ২০২৬ ২২:৩৪ পিএম
আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০২৬ ২২:৫৬ পিএম
রাজশাহীর সারদায় বুধবার সকালে কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির। ছবি: বাংলাদেশ পুলিশ
রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমীর প্যারেড গ্রাউন্ডে ৪১তম ক্যাডেট সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) ২০২৫ ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। বুধবার সকালে অনুষ্ঠানের কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমীর প্রিন্সিপাল (অতিরিক্ত আইজি) জি এম আজিজুর রহমান। কুচকাওয়াজে প্যারেড কমান্ডার হিসেবে নেতৃত্ব দেন সহকারী পুলিশ সুপার শুভ কুমার ঘোষ।

সমাপনী কুচকাওয়াজে মোট ২০৯ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশগ্রহণ করেন। এ সময় উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং প্রশিক্ষণার্থীদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, “পুলিশের প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় কাজ করা”।
নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের পেশাদারিত্ব, আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কর্তব্য পালনের নির্দেশ দিয়ে আইজিপি বলেন, “দীর্ঘ ও কঠোর প্রশিক্ষণকাল তোমাদের শারীরিক সক্ষমতা, মানসিক দৃঢ়তা এবং নৈতিক মূল্যবোধকে সমৃদ্ধ করেছে”।

নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, “তোমাদের সামনে যে পথ উন্মুক্ত হচ্ছে তা সম্মানের ও দায়িত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, জনগণের আস্থা ও ভালোবাসাই পুলিশের সবচেয়ে বড় শক্তি। সততা, নিষ্ঠা ও মানবিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। যেকোনো পরিস্থিতিতে আইনের শাসন সমুন্নত রাখা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেওয়া পুলিশের নৈতিক কর্তব্য”।
তিনি বলেন, “বর্তমান বিশ্বের প্রেক্ষাপটে অপরাধের ধরণ দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ, সাইবার ক্রাইম এবং জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় পুলিশ অফিসারদের দক্ষতা ও সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ”।
তিনি আরও বলেন, “তোমরা আজ শুধু একটি চাকরিতে যোগ দিচ্ছো না, বরং একটি মহান সেবামূলক পেশায় আত্মনিয়োগ করছো, যে পেশার মূলমন্ত্র হলো ‘সেবাই ধর্ম’। মানুষের পাশে দাঁড়ানো, তাদের বিপদে সহায়তা করা এবং ন্যায় প্রতিষ্ঠা করার মূল্যবোধ ধারণ করেই তোমাদের এগিয়ে যেতে হবে। আশা করি, তোমরা তোমাদের দায়িত্ব পালনে সর্বদা পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা এবং দেশপ্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে এবং বাংলাদেশ পুলিশের সুনাম অক্ষুন্ন রাখবে”।