জিয়ানগর (পিরোজপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ এপ্রিল ২০২৬ ২০:২৩ পিএম
আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০২৬ ২০:২৯ পিএম
মুক্তা বেগমের রেকে যাওয়া তিন সন্তান আরজিনি, আছিয়া ও সাত মাস বয়সী খাদিজা। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
পিরোজপুরের জিয়ানগরে ইউনিয়ন পরিষদের বারান্দায় তিন শিশু সন্তান রেখে উধাও হয়েছেন মুক্তা বেগম (২৭) নামের এক নারী।
উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়নে বুধবার সকাল ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চন্ডিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মঞ্জু।
স্থানীয়রা জানান, মুক্তা বেগমের স্বামী আমান উল্লাহ প্রায় এক বছর আগে দ্বিতীয় বিয়ে করে অন্যত্র বসবাস শুরু করেন। এরপর থেকে তিনি স্ত্রী-সন্তানদের কোনো খোঁজখবর নেননি। ফলে চরম অভাব-অনটনের মধ্যে তিন সন্তানকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন মুক্তা।
বুধবার সকালে তিন সন্তান আরজিনি (৬), আছিয়া (৩) ও সাত মাস বয়সী খাদিজাকে নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে আসেন তিনি। পরে পরিষদের দোতলার বারান্দায় শিশু তিনটিকে রেখে তিনি নিখোঁজ হয়ে যান।পরে শিশুদের কান্নাকাটি দেখে পরিষদের লোকজন খোঁজাখুঁজি শুরু করলেও বিকেল পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
জানা গেছে, মুক্তা বেগমের আয়ের একমাত্র উৎস ছিল একটি সেলাই মেশিন। কিন্তু এক হাজার টাকা দেনার দায়ে সেটিও নিয়ে যান পাওনাদার। এতে তিনি আরও অসহায় হয়ে পড়েন।
ইউপি সদস্য সাহিদা আক্তার পারুল জানান, পারিবারিক কলহ ও শ্বশুরবাড়ির নির্যাতনের কারণে মুক্তার জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছিল।
চন্ডিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মঞ্জু বলেন, “মুক্তার স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করে আলাদা থাকেন। তার আয়ের একমাত্র সম্বল সেলাই মেশিনটিও নিয়ে নেওয়ায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন”।
এ বিষয়ে জিয়ানগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মো. হাফিজুর রহমান বলেন, “বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে”।
তবে অসহায় এই পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।