চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ০৮ এপ্রিল ২০২৬ ১৯:৩৬ পিএম
আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০২৬ ১৯:৩৯ পিএম
সিসিটিভি নেটওয়ার্ক উদ্বোধন করছেন সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী।
চট্টগ্রাম মহানগরীর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও শক্তিশালী ও আধুনিক করতে পাঁচলাইশ থানা এলাকায় স্থাপন করা হয়েছে উন্নতমানের ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা (সিসিটিভি) নেটওয়ার্ক। নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তিনির্ভর এই উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে নগরীর পাঁচলাইশ থানায় আয়োজিত এক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এসব সিসিটিভি ক্যামেরার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ক্যামেরাগুলোর শুভ উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী।
উদ্বোধনী বক্তব্যে পুলিশ কমিশনার বলেন, দ্রুত বর্ধনশীল এই মহানগরীতে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রযুক্তির ব্যবহার এখন সময়ের দাবি। চুরি, ছিনতাই, ডাকাতিসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে সিসিটিভি ক্যামেরা কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি আরও বলেন, অপরাধ সংঘটনের পর অপরাধী শনাক্তকরণ এবং দ্রুত আইনের আওতায় আনার ক্ষেত্রেও এই ক্যামেরাগুলো গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হবে।
তিনি জানান, পাঁচলাইশ থানা এলাকায় ইতোমধ্যে ৪৭টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে মোট ১২৮টি আধুনিক সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এসব ক্যামেরা ২৪ ঘণ্টা সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাতে সক্ষম, যার মাধ্যমে নগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মোড় ও জনসমাগমস্থলগুলো পর্যবেক্ষণে রাখা সম্ভব হবে। ফলে যেকোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপ দ্রুত শনাক্ত করা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা সহজ হবে। এই উদ্যোগ কেবল একটি থানার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। পর্যায়ক্রমে চট্টগ্রাম মহানগরীর প্রতিটি থানা এলাকায় একই ধরনের সিসিটিভি নেটওয়ার্ক স্থাপন করা হবে। এতে পুরো নগরজুড়ে একটি সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে উঠবে, যা নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অপরাধ দমনে নতুন মাত্রা যোগ করবে।
নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করে সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা শুধু পুলিশের একার দায়িত্ব নয় এটি একটি সম্মিলিত প্রচেষ্টা। সিসিটিভি ক্যামেরার পাশাপাশি জনসচেতনতা ও নাগরিকদের সহযোগিতা থাকলে নগরকে আরও নিরাপদ রাখা সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে সিএমপির ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাবৃন্দসহ সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিনির্ভর এই সিসিটিভি নেটওয়ার্ক ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।