বরিশাল প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ এপ্রিল ২০২৬ ১১:০৬ এএম
'ইসমাইল ডাকুয়া স্মৃতি ক্রীড়া অনুষ্ঠান' সঞ্চালনা করেন রফিকুল ইসলাম হিমেল এবং সভাপতিত্ব করেন মো. জলিল ডাকুয়া। । ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
উজিরপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী হস্তিশুন্ড গ্রাম একসময় ক্রীড়ার উচ্ছ্বাসে মুখর ছিল। ১৯৮৮ সালে এখানে আয়োজিত “মিনি অলিম্পিক” গ্রামীণ ক্রীড়ার এক গৌরবময় সূচনা করলেও দীর্ঘদিন তা আর আয়োজন করা হয়নি।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হারিয়ে যেতে থাকে সেই প্রাণবন্ত খেলার পরিবেশ। প্রযুক্তির অপব্যবহার, মোবাইল আসক্তি ও নানা নেতিবাচক প্রভাব তরুণদের খেলাধুলা থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।
এই পরিস্থিতি বদলাতে এগিয়ে আসে পশ্চিম হস্তিশুন্ডের সচেতন যুবসমাজ। তারা তরুণদের সুস্থ ও ক্রীড়ামুখী জীবনে ফিরিয়ে আনতে ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগ গ্রহণ করে।
এই উদ্যোগকে শক্তিশালী করতে প্রবাস জীবন ছেড়ে গ্রামে ফিরে আসেন লন্ডনপ্রবাসী রফিকুল ইসলাম রায়হান ডাকুয়া। তার সহযোগিতায় আয়োজন করা হয় 'ইসমাইল ডাকুয়া স্মৃতি ক্রীড়া অনুষ্ঠান'।
অনুষ্ঠানটি রূপ নেয় এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায়। গ্রামবাসীর অংশগ্রহণে এটি নতুন জাগরণের প্রতীক হয়ে ওঠে।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন রফিকুল ইসলাম হিমেল এবং সভাপতিত্ব করেন মো. জলিল ডাকুয়া। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রফিকুল ইসলাম রায়হান ডাকুয়া।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভবতোষ চক্রবর্তী, মনির ডাকুয়া, মুহিন হাওলাদার, মোঃ দুলাল ডাকুয়া, খোকন নাগ, জসিম উদ্দিন রুবেল, মানিক মোল্লা।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উজিরপুর উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি সাংবাদিক মাহফুজুর রহমান মাসুম, নির্বাহী সদস্য আসাদুজ্জামান সোহাগ, নাজমুল হকসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
ক্রীড়া উৎসবে ফিরে আসে গ্রামীণ ঐতিহ্যের নানা খেলা। হাড়িভাঙা, তৈলাক্ত কলাগাছে ওঠা, রশি টানাটানি ও ক্রিকেট টুর্নামেন্টে ছিল ব্যাপক অংশগ্রহণ।
প্রতিটি আয়োজনে দর্শকদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি পুরো গ্রামকে আনন্দমুখর করে তোলে। দীর্ঘদিন পর এমন উৎসব গ্রামবাসীর মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করে।
এই আয়োজন শুধু ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়, বরং হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যের পুনর্জাগরণ। পাশাপাশি এটি সামাজিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।
তরুণ প্রজন্মকে সঠিক পথে পরিচালিত করার ক্ষেত্রেও এ আয়োজন একটি শক্তিশালী বার্তা বহন করছে। হস্তিশুন্ডের এই উদ্যোগ অন্যান্য গ্রামের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।