ঝিনাইদহ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ এপ্রিল ২০২৬ ১১:৪৯ এএম
আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০২৬ ১৪:২৪ পিএম
হোসনে আরা। ফাইল ছবি
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার সদ্য সাবেক ইউএনও হোসনে আরাকে এবার সাতক্ষীরার তালা থেকে রাজশাহী বদলি করা হয়েছে। এ ঘটনায় দেশজুড়ে আবার নতুন করে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. বরমান হোসেনের সই করা এক প্রজ্ঞাপনে রবিবার এ আদেশ দেওয়া হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, হোসনে আরাকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার হতে প্রত্যাহার পূর্বক সিনিয়র সহকারী কমিশনার হিসেবে পরবর্তী পদায়নের জন্য রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে ন্যস্ত করা হলো।
এর আগে, গত শুক্রবার ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদের বিরুদ্ধে ইউএনও হোসনে আরার একটি অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।
ছড়িয়ে পড়া অডিওতে সদর উপজেলার সদ্য বিদায়ী ইউএনও হোসনে আরাকে স্থানীয় এক সাংবাদিকের সঙ্গে মোবাইলে কথা বলতে শোনা গেছে।
সেখানে তিনি ওই সাংবাদিককে বলেন, “জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মাসউদ তাকে (ইউএনও) টাকাসহ বিভিন্ন অনৈতিক প্রস্তাব দেন। তাতে রাজি না হওয়ায় বিধিবহির্ভূতভাবে বদলি করিয়েছেন।”
ইউএনও বলেন, “একটা মানুষের যত খারাপ দোষ থাকে সবকিছুই ওনার আছে। মন্ত্রীর পা ছুঁয়ে এসে জামায়াতের গলা ধরেন। ওনার কোনো চরিত্র নাই। লাখ টাকার দুর্নীতি করেন। তা আপনারা নিউজ করেন না।”
তিনি আরও বলেন, “উনি খারাপ লোক। ওনার সাথে কি নাইট স্টে করতে হবে। বারবার পরিষদে বিধিবহির্ভূত বরাদ্দ নিতে বলে। আমি তাতে রাজি হইনি। আমার অসুস্থ দুইটা বাচ্চাকে নিয়ে দ্রুত এখান থেকে চলে যেতে বলেছে।”
জেলা সচেতন সমাজের প্রতিনিধি ও মানবাধিকার কর্মী আনোয়ারুজ্জামান আজাদ বলেন, “বর্তমান সরকার যেখানে নারীর সুশাসন ও ক্ষমতায়নের কথা বলছে, সেখানে একজন নারী ইউএনওর সঙ্গে এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। কয়েকদিন আগেই তাকে ঝিনাইদহ থেকে সাতক্ষীরার তালায় বদলি করা হয়েছিল। আবার তাকে রাজশাহীতে বদলি করা হয়েছে। এটা অত্যন্ত পরিতাপের। আমার মনে হয় ওই অডিও ক্লিপ প্রকাশের পর জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ ক্ষুব্ধ হয়ে এমনটা ঘটাতে পারে । বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের তদন্ত করা উচিত।”
এ বিষয়ে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে ইউএনও হোসনে আরার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল্লাহ আল মাসউদকে ফোন করা হলে তিনিও কথা বলতে রাজি হননি।