সাইফুল হক মোল্লা দুলু, মধ্যাঞ্চল
প্রকাশ : ০৬ এপ্রিল ২০২৬ ১১:২৭ এএম
আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০২৬ ১১:৪৩ এএম
ড্রেজারে অবৈধ বালু উত্তোলনে ধনু নদীতে ভয়াবহ ভাঙন, আতঙ্কে নদীপাড়ের হাজারো মানুষ। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ধনু নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। মাছ ধরার জন্য নদী ইজারা নেওয়ার আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে ড্রেজার ব্যবহার করে বালু তোলা হচ্ছে। এতে নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে।
উপজেলার বালিখোলা ফেরিঘাট সংলগ্ন সূতারপাড়া গ্রামের সামনে মাসের পর মাস ধরে চলছে এই কার্যক্রম। অন্তত পাঁচটি ড্রেজার দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বালু উত্তোলন করা হচ্ছে েএবং প্রতিদিন শত শত নৌকায় করে এসব বালু বিভিন্ন স্থানে পাচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
জানা যায়, এতে সূতারপাড়াসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রাম ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে। ফসলি জমিতে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়ে জমি দ্রুত বিলীন হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, বর্ষা শেষে এসব জমিতে আলু, ভুট্টা ও মরিচসহ বিভিন্ন ফসল চাষ করা হতো। এখন অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনের কারণে সেই জমিগুলো হারিয়ে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে কৃষক মানিক মিয়া বলেন, প্রভাবশালী চক্র এরই মধ্যে প্রায় ৫০ একর জমি দখল করেছে। প্রতিবাদ করলে হামলা ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
নদীপাড়ের বাসিন্দা নূরুজ্জামান বলেন, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে একটি মহল বালু উত্তোলন করছে। সাধারণ মানুষ বাধা দিলেও তা মানা হচ্ছে না।
তিনি জানান, নদীভাঙনে গ্রামবাসীরা জমি হারিয়ে চরম খাদ্য সংকটের আশঙ্কায় পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আশরাফ বলেন, ড্রেজারের কারণে বিঘার পর বিঘা জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে কয়েক বছরের মধ্যে পুরো গ্রাম হুমকিতে পড়বে।
ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, প্রশাসনের কাছে বারবার অভিযোগ জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, প্রতি বছর যদি ১০০ থেকে ২০০ ফুট করে ভাঙন বাড়ে, তবে ২০ হাজার মানুষের এই জনপদ মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে পারে।
সুতারপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি মো. জাহিদুর হক বলেন, মাছ ধরার ইজারার সুযোগ নিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।
তিনি অভিযোগ করেন, সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তি সরাসরি এই কর্মকাণ্ডে জড়িত। এলাকাবাসীর নিরাপত্তায় দ্রুত স্থায়ী সমাধান চান তিনি।
এ বিষয়ে করিমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার বলেন, ইজারার শর্ত ভঙ্গ করে পরিবেশের ক্ষতি করা হলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।