ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৬ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:৩৩ এএম
আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:৩৪ এএম
ফুটবল খেলা থেকে শুরু হয়ে ভৈরবে রূপ নেয় ভয়াবহ সংঘর্ষ। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় দোকানপাট, মসজিদ ও মাদ্রাসায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
পৌর শহরের ঘোড়াকান্দা এলাকার মসজিদ বাড়ির যুবকদের সঙ্গে পলাশ সিনেমা হল মোড়ের যুবকদের মধ্যে রবিবার বিকাল ৫টার দিকে এ সংঘর্ষ শুরু হয়।
খবর পেয়ে ভৈরব থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় উভয় পক্ষের ১২ জনকে আটক করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভৈরব-কুলিয়ারচর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. ফয়জুল ইসলাম।
সংঘর্ষে রিয়াদ মিয়া (২৩), অনিক মিয়া (১৬), সাজিম মিয়া (১৫), রুহান (১৫), মুশকত (১৮), রুহান মিয়া (১৪), সজীব মিয়া (১৮), সাইমন মিয়া (২১), ফাহিম মিয়া (১৪), সাইমন মিয়া (১৮), শাওন মিয়া (১৮)সহ মোট ৩০ জন আহত হন।
আহতদের মধ্যে ৫ জন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন। গুরুতর আহত সাইমন নামের একজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বাকিরা বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছেন।
ফেসবুকে ‘উসকানিমূলক স্ট্যাটাস’
স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা হল তারা জানায়, দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে ফেসবুকে উসকানিমূলক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা চলছিল। ঘোড়াকান্দা বালুর মাঠে ফুটবল খেলা নিয়ে রবিবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে সাইমন ও মুশকতের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
একপর্যায়ে মসজিদ বাড়ির যুবকেরা সাইমনকে মারধর করে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে বিকাল ৫টার দিকে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করে বলেও তারা জানান।
পরবর্তীতে দুই পক্ষ দা, বল্লম, লাঠিসোঁটা ও ইট-পাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ার কথা উল্লেখ করে তারা বলেন, এ সময় একটি মসজিদসহ বেশ কয়েকটি দোকানপাট ভাঙচুর করা হয়।ৎ
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের পর আবারও সংঘর্ষ
তারা আরও জানায়, সন্ধ্যা ৬টার দিকে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও রাত ৭টার দিকে আবারও সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলা সংঘর্ষে রাস্তার পাশের প্রায় ২০টি বাড়িঘর ও দোকানপাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
দ্বিতীয় দফার সংঘর্ষের সময় একটি মসজিদ ও একটি মহিলা মাদ্রাসা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর পর পুনরায় পুলিশ এবং ভৈরব সেনাবাহিনী ক্যাম্পের সদস্যরা যৌথভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন বলেও জানান তারা।
ঘোড়াকান্দা এলাকার বাসিন্দা দিনার মিয়া বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছিল। ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সেই দ্বন্দ্ব সংঘর্ষে রূপ নেয়। তিনি এই সমস্যার দ্রুত সমাধানেরও দাবি জানান।
মসজিদ বাড়ির ইমাম মোশাররফ হোসেন বলেন, আছরের নামাজের সময় বাইরে হট্টগোল শুরু হয়। পরে ইট-পাটকেল নিক্ষেপে মসজিদের গ্লাস ভেঙে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত দোকানি রোজী বেগম বলেন, সংঘর্ষকারীরা তাদের দোকান ও আশপাশের বাড়িঘর ভাঙচুর করেছে। তিনি দোষীদের বিচার দাবি করেন।
সহকারী পুলিশ সুপার মো. ফয়জুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
তিনি আরও জানান, আটক ১২ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।