বগুড়া-৬ উপনির্বাচন
বগুড়া অফিস
প্রকাশ : ০৫ এপ্রিল ২০২৬ ১৫:০৫ পিএম
আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০২৬ ১৫:২৬ পিএম
বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপনির্বাচন ঘিরে বিএনপি-জামায়াত উভয় প্রার্থীদের পাল্টাপাল্টি অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে নির্বাচনি পরিবেশ। কোলাজ: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপনির্বাচন ঘিরে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের পাল্টাপাল্টি অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে নির্বাচনি পরিবেশ। অনিয়ম, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী।
বগুড়া প্রেসক্লাবে রবিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রেজাউল করিম বাদশা অভিযোগ করেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রতিপক্ষ পরিকল্পিতভাবে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে।
তিনি দাবি করেন, বিএনপির পোস্টার-ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে এবং অনেক জায়গায় তাদের ব্যানারের ওপর অন্য দলের ব্যানার টাঙানো হচ্ছে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগও দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
বিভ্রান্তি সৃষ্টির অভিযোগ বিএনপির
রেজাউল করিম বাদশা বলেন, তারা সহনশীল অবস্থানে আছেন এবং কোনো উসকানিতে সাড়া দিচ্ছেন না। তিনি নেতা-কর্মীদের সংযত থাকার আহ্বান জানিয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রতিপক্ষের (জামায়াতের) বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বগুড়াকে মাগুরা বলা হাস্যকর ও ভিত্তিহীন। তিনি বলেন, প্রতিপক্ষের বগুড়ায় জয়ের কোনো ইতিহাস নেই।
ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, অসত্য তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে। ধর্মীয় আবেগ ব্যবহার করে প্রতারণামূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে এবং একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের জন্য সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বগুড়ার উন্নয়নে কেন্দ্রীয় সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন। পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কাজ দ্রুত এগোবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি দাবি করেন, ভোটাররা তাদের পক্ষে রয়েছে এবং সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তারা বিপুল ভোটে জয়ী হবেন।
প্রচারে বাধা দেওয়ার অভিযোগ জামায়াতের
এর আগে শনিবার বগুড়া শহরের দলীয় কার্যালয়ে পৃথক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যক্ষ আবিদুর রহমানও নানা অনিয়মের অভিযোগ তোলেন।
তিনি বলেন, নির্বাচনি পরিবেশ ক্রমেই অশান্ত হয়ে উঠছে এবং তার কর্মী-সমর্থকদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, বিভিন্ন এলাকায় তাদের প্রচারে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে।
তার অভিযোগ, ব্যানার-ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলা, সভা পণ্ড করার চেষ্টা এবং প্রতিপক্ষের প্রতীকসংবলিত ব্যানার টানানোর মতো ঘটনা ঘটছে।
তিনি জানান, এসব বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিক অভিযোগ দেওয়া হলেও এখনও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
আবিদুর রহমান আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ভোটের দিন কেন্দ্র দখল ও কারচুপির চেষ্টা হতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে তিনি পাঁচ দফা দাবি জানান, যার মধ্যে রয়েছে আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা, সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার, প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপন, নিরপেক্ষ প্রিজাইডিং কর্মকর্তা নিয়োগ এবং নির্বাচনের আগে সেনাবাহিনী মোতায়েন।