রাজু আহমেদ, রাজশাহী
প্রকাশ : ০৫ এপ্রিল ২০২৬ ১০:৪২ এএম
আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০২৬ ১১:২২ এএম
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডগুলোতে ধারণক্ষমতার বেশি রোগী। শনিবার হাসপাতালটির ১০ নং ওয়ার্ড। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভয়াবহ চাপের মধ্যে চলছে চিকিৎসাসেবা, যেখানে শিশু ওয়ার্ডগুলোতে ধারণক্ষমতার বহুগুণ বেশি রোগী ভর্তি হয়েছে। চারটি শিশু ওয়ার্ডে এক হাজারের বেশি রোগী চিকিৎসাধীন থাকায় একেকটি বেডে ৪-৫ জনকে রাখতে হচ্ছে। তাতেও সঙ্কুলান না হওয়ায় ওয়ার্ডের মেঝে থেকে শুরু করে বারান্দা পর্যন্ত ছড়িয়ে রয়েছে রোগী। এরই মধ্যে অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ হাম ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
মাত্র ১ হাজার ২০০ বেডের এই হাসপাতালে প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার রোগী চিকিৎসা নিচ্ছে, যদিও বর্তমান জনবল দিয়ে সর্বোচ্চ ৬৫০ বেডের সেবা পরিচালনা সম্ভব বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। শিশুদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও সংকটজনক, ২০০ বেডের বিপরীতে প্রায় এক হাজার শিশু চিকিৎসাধীন।
হাসপাতালে শুক্রবার সকাল থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এদের দুজনের বয়স ৫ মাস করে এবং একজনের বয়স ৭ মাস। এ নিয়ে হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৮ জনে।
শুক্রবার সকাল থেকে গতকাল শনিবার সকাল পর্যন্ত হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যাদের বয়স ৫ থেকে ৭ মাসের মধ্যে। এদের মধ্যে দুজন চাঁপাইনবাবগঞ্জের এবং একজন নাটোরের। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৮ জনে। একই সময় নতুন করে ২৫ জন ভর্তি হয়েছে, বর্তমানে ১৪৯ জন হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন, যার মধ্যে ৭ জন প্রাপ্তবয়স্কও রয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও আশপাশের জেলা থেকে রোগী রেফার হয়ে আসায় চাপ আরও বেড়েছে। অভিভাবকরা অভিযোগ করছেন, অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে শিশুরা নতুন সংক্রমণের ঝুঁকিতে পড়ছে। চিকিৎসকরাও পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, রোগীর চাপ সামাল দেওয়া বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্বয়ং রামেক হাসপাতালের চিকিৎসকরাও চিন্তিত।
বিষয়টি নিশ্চিত করে রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ও ইএমও ইনচার্জ ডাক্তার শঙ্কর কে বিশ্বাস জানান, এই সময়ের মধ্যে হামে উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে ২৫ জন। ডিসচার্জ ৩ জন। বর্তমানে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১৪৯ জন; এদের মধ্যে ৭ জন প্রাপ্তবয়স্ক।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের আসমা বেগমের ৭ মাসের শিশুকে হামের উপসর্গ থাকায় জেলা সদর হাসপাতাল থেকে রামেকে রেফার করা হয়েছে। এখানে এসে আসমা বেগম ঘাবড়ে পড়েছেন, আশঙ্কা করছেন এই গাদাগাদি করে চিকিৎসা নিতে গিয়ে তার শিশুটি অন্য কোনো রোগে সংক্রমিত হয়ে পড়তে পারে। একই অভিযোগ অধিকাংশ শিশুর অভিভাবকদের।
কুষ্টিয়ার আকরাম হোসেন তার ছেলের শ্বাসকষ্ট সমস্যায় রামেক হাসপাতালে ভর্তি করান। এরপর তার ছেলে শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দেয়। আকরাম জানান, শিশুদের ওয়ার্ডগুলোতে গাদাগাড়ি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এতে তার ছেলের মতো অন্যান্য শিশুরাও সংক্রমণের ঝুঁকিতে রয়েছে।
রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ও ইএমও ইনচার্জ ডাক্তার শঙ্কর কে বিশ্বাস জানান, রামেক হাসপাতালে ২০০ বেডের বিপরীতে এক হাজার শিশু চিকিৎসা নিচ্ছে। এটি আমাদের জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ। হাম অতিমাত্রায় ছোঁয়াচে হলেও আমাদের কাউকে চিকিৎসা না দিয়ে ফিরিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। সক্ষমতার চাইতে বেশি রোগীর সেবা দিয়ে যাচ্ছি। জনবল বৃদ্ধির জন্য বারবার স্বাস্থ্য বিভাগে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
এদিকে গতকাল রাজশাহী মেডিকেল কলেজ পরিদর্শন শেষে রাসিকের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান বলেন, সিটি এলাকায় ৬ মাস থেকে ১০ বছরের শিশুদের সংখ্যা ১ লাখ ৪০ হাজার। এদের মধ্যে ৮ হাজার শিশুকে প্রথম দফায় হামের টিকা দেওয়া হবে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় রামেকসহ আশপাশের সব হাসপাতালকে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে।