× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বিআরটিএর সেবা ‘কন্ট্রাক্টে’

আব্দুল মাজিদ চৌধুরী, সিলেট

প্রকাশ : ০৫ এপ্রিল ২০২৬ ১০:০৮ এএম

আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০২৬ ১০:২৬ এএম

অনিয়ম, দুর্নীতি ও গ্রাহক হয়রানির আখড়ায় পরিণত হয়েছে সিলেট বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) অফিস। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

অনিয়ম, দুর্নীতি ও গ্রাহক হয়রানির আখড়ায় পরিণত হয়েছে সিলেট বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) অফিস। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

অনিয়ম, দুর্নীতি ও গ্রাহক হয়রানির আখড়ায় পরিণত হয়েছে সিলেট বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) অফিস। স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় আবেদন করে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাওয়া এখানে যেন আকাশের চাঁদ হাতে পাওয়ার মতোই কঠিন। ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন করে মাসের পর মাস, এমনকি বছরের পর বছর ঘুরেও সেবা মিলছে না অনেকের। তবে ‘কন্টাক্ট’ বা দালালের মাধ্যমে অতিরিক্ত টাকা দিলে অসম্ভব কাজও দ্রুত সম্পন্ন হচ্ছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

সিলেট বিআরটিএ অফিসে গিয়ে দেখা যায়, সকাল ৯টা পেরোলেও অধিকাংশ কর্মকর্তার চেয়ার খালি। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্রাহকদের ভিড় বাড়লেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতি দেখা যায় দেরিতে। অফিসের সহকারী পরিচালক খালিদ মাহমুদ ও মোটরযান পরিদর্শক মোশারফ হোসেন নিজ নিজ কক্ষে থাকলেও সেখানে সাধারণ গ্রাহকদের চেয়ে দালাল ও ‘ফাইল কন্টাক্টারদের’ যাতায়াতই বেশি লক্ষ করা গেছে।

অভিযোগ রয়েছে, অনেক কর্মকর্তা সরাসরি সেবা না দিয়ে গ্রাহকদের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর দিয়ে ‘স্যারের সঙ্গে কথা বলে খরচ জানার’ পরামর্শ দিচ্ছেন। এতে সাধারণ সেবাগ্রহীতারা বাধ্য হয়ে দালালচক্রের শরণাপন্ন হচ্ছেন।

অফিসের বাইরে এক দালালের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ‘পেশাদার’ ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য সাড়ে ১৩ হাজার টাকা এবং ‘অপেশাদার’ লাইসেন্সের জন্য ১৫ হাজার টাকার ‘প্যাকেজ’ দিলেই দ্রুত কাজ সম্পন্ন করা হয়। এই প্যাকেজে ডোপ টেস্ট ছাড়া প্রায় সব কার্যক্রম দালালরাই সম্পন্ন করে থাকে। এমনকি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলেই পাস করিয়ে দেওয়ার নিশ্চয়তাও দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, টাকা না দিলে পরীক্ষায় পাস করলেও ফলাফলের তালিকায় নাম ওঠে না। ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিতে আসা এক গ্রাহক জানান, তিন বছর আগে লার্নার নিয়ে একাধিকবার পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করলেও তালিকায় নাম আসেনি। পরে তিন হাজার টাকা দিয়ে দালালের মাধ্যমে পাস করিয়ে বর্তমানে ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিতে এসেছেন।

এ ছাড়া ফিটনেস সার্টিফিকেট ও লাইসেন্স পেতে অনেককে বছরের পর বছর ঘুরতে হচ্ছে। অন্যদিকে সার্ভার সমস্যার অজুহাতে অনেককে ফিঙ্গারপ্রিন্ট না নিয়েই ফেরত পাঠানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

আরও জানা গেছে, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষায় ফেল করা প্রার্থীরাও ঘুষের বিনিময়ে লাইসেন্স পাচ্ছেন। এমনকি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করেও লাইসেন্স পাওয়ার নজির রয়েছে। প্রতিটি ধাপে পাস নিশ্চিত করতে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে হয় বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে সহকারী পরিচালক খালিদ মাহমুদের সরকারি নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। একইভাবে মোটরযান পরিদর্শক মোশারফ হোসেনের সঙ্গেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

সিলেট বিআরটিএ অফিসের এ ধরনের ‘ওপেন সিক্রেট’ দুর্নীতি বন্ধে দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সাধারণ সেবাগ্রহীতারা।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা