× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

যশোরে সংক্রামক রোগে ৩ মাসে ১৩ মৃত্যু

তরিকুল ইসলাম মিঠু, যশোর

প্রকাশ : ০৪ এপ্রিল ২০২৬ ২০:০৪ পিএম

যশোর জেনারেল হাসপাতাল। ফাইল ছবি

যশোর জেনারেল হাসপাতাল। ফাইল ছবি

যশোরে ডায়রিয়া, চিকেন পক্স ও ম্যালেরিয়াসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হয়ে এ বছরের প্রথম তিন মাসে ১৩ জন মারা গেছে। তবে এ সময়ে জেলায় হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো রোগী মারা যায়নি।

যশোর জেনারেল হাসপাতালের সংক্রামক ওয়ার্ডের রেজিস্টার থেকে মৃত্যুর এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। কিন্তু সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে সংক্রমণের আলাদা কোনো পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি।

অপরদিকে, হাসপাতালে রোগীর চাপও অব্যাহত রয়েছে। সর্বশেষ ৩৪ ঘণ্টায় ( বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত) নতুন করে মোট ৩৮ জন রোগী সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হাসপাতালে এ ক্রমবর্ধমান রোগীর চাপ সামলাতে কর্তৃপক্ষ বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে। নির্ধারিত ওয়ার্ডের পাশাপাশি পেইন ওয়ার্ডে অতিরিক্ত আটটি শয্যা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া, হামের রোগীদের বিশেষায়িত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আলাদা একটি কর্নার খোলা হয়েছে।

যশোর জেনারেল হাসপাতালের সংক্রামক ওয়ার্ডের রেজিস্টার খাতা অনুযায়ী, গত তিন মাসে চিকেন পক্স, ডায়রিয়া, ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ১৩ জন মারা গেছে। মৃত ১৩ জনের মধ্যে দেড় বছর বয়সী একজন, তিন বছর বয়সী একজন, পাঁচ বছর বয়সী একজন, ১৬ বছর বয়সী একজন, ৩২ থেকে ৫৫ বছর বয়সী আটজন এবং ৭০ বছরের একজন আছে। মৃতদের মধ্যে চিকেন পক্সে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৫ জন (পুরুষ ৩, নারী ১, শিশু ১)। ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন সাতজন (নারী ৪, পুরুষ ১, শিশু ২)। এছাড়া, ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে এক নারী মারা গেছে।

বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৩৮ জন রোগী। এর মধ্যে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ২২ জন। ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি আছেন ১২ জন (নারী ২, পুরুষ ৩ ও শিশু ৭)। এছাড়া চিকেন পক্সে ৩ জন এবং ম্যালেরিয়া ও কালাজ্বরে ১ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

অন্যদিকে, হামে আক্রান্ত হয়ে আটজন চিকিৎসা নিলেও এ রোগে কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন চক্ষু বিশেষজ্ঞ হিমাদ্রি শেখর সরকার ও ইএনটি বিশেষজ্ঞ তনিজ উদ্দিন।

যশোর সদরের তপশীডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা মুকুল বিশ্বাস বলেছেন, গত মঙ্গলবার নাতনি রেশমাকে (২) হামজনিত কারণে হাসপাতালে ভর্তি করি। কিন্তু শয্যা সংকট থাকাতে মেঝেতে থাকতে হচ্ছে। 

ওয়ার্ডের স্টাফ নার্স নাসরিন সুলতানা বলেন, শয্যা সংকটের মধ্যেও রোগীদের স্বজনদের কথা শুনে কাজ করতে হচ্ছে। তারপরেও রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলে মনে আনন্দ লাগছে।

যশোর জেনারেল হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ মাহফুজুর রহমান বলেছেন, শিশুদের বয়স নয় মাস পূর্ণ হলে হাম ও রুবেলা প্রতিরোধের জন্য ‘এমআর’ (হাম-রুবেলা) টিকা দেওয়া শুরু হয়। এই টিকা শিশুকে হামের আক্রমণ থেকে সুরক্ষা দেয়। বর্তমানে হাসপাতালে যে শিশুরা ভর্তি হয়েছে, তাদের অধিকাংশই এখনো এই টিকার ডোজ পায়নি। হাম রোগীদের জন্য হাসপাতালে শয্যা সংকট থাকায় চতুর্থতলা আলাদা হবে। ৮টা বেড প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া বড়দের শরীরে সাধারণত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউনিটি তৈরি হয়ে যাওয়ায় তারা হামে সহজে আক্রান্ত হন না। তবে শারীরিকভবে অত্যন্ত দুর্বল ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে হামে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থেকে যায়।

জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডাক্তার আহসান কবির বাপ্পি সাম্প্রতিক সময়ে আশংকাজনকভাবে বাড়ার পেছনে প্রধানত টিকা প্রদানে অবহেলা এবং জনস্বাস্থ্যের সচেতনতার অভাবকে দায়ী করছেন।

এছাড়া, অনেক সময় অভিভাবকরা সময়মতো হামের টিকা (এমআর টিকা) শিশুকে দেন না। বিশেষ করে করোনা মহামারীর সময় এবং রাজনৈতিক পট পরিবর্তন পরবর্তী পরিস্থিতিতে অনেক ক্ষেত্রে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম বিঘ্নিত হয়েছে। টিকা নিয়ে নানা ধরনের ভুল ধারণা বা গুজবে অনেক পরিবার টিকা নেওয়া থেকে বিরত থাকে, যা প্রাদুর্ভাব ছড়াতে সাহায্য করছে।

যশোর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার হুসাইন শাফায়েত বলেন, হাম ভাইরাসটি ফ্লু বা কোভিডের চেয়েও বেশি সংক্রামক। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির মাধ্যমে এটি দ্রুত বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে এবং ওই বাতাসে ভাইরাসটি প্রায় দুই ঘণ্টা পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। এজন্য অতিরিক্ত ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় একজন আক্রান্ত হলে দ্রুত অন্যদের মধ্যে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম বা যারা টিকা নেয়নি। এছাড়াও ভিটামিন ‘এ’-এর অভাব এবং অপুষ্টির কারণে শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। এতে তারা সহজেই হামে আক্রান্ত হয় এবং জটিলতা বেশি দেখা দেয়। এক এলাকার মানুষ অন্য এলাকায় যাতায়াতের মাধ্যমে ভাইরাসটি নতুন নতুন এলাকায় সংক্রমিত হচ্ছে।

যশোরের সিভিল সার্জন ডাক্তার মাসুদ রানা বলেছেন, হাম প্রতিরোধে শিশুকে সঠিক সময়ে (নয় মাস ও ১৫ মাস বয়সে) হামের দু'টি ডোজ টিকা দিতে হবে। আক্রান্ত শিশুকে আলাদা রাখে প্রচুর তরল খাবার ও ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ খাবার দিতে হব। রোগীর শরীরে এসব রোগের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা