জানা গেছে, খেপুপাড়া মৌজার পাঁচ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য'র জিনবুনিয়া খালটির টিয়াখালী ইউনিয়নের পশ্চিম বাদুরতলী অংশে অন্তত সহস্রাধিক একর আবাদী জমি রয়েছে। এর উৎপাদিত ফসলের উপর নির্ভর করে ওই এলাকার পাঁচ শতাধিক মানুষের জীবন-জীবিকা।
ওই এলাকার একটি কুচক্রী মহল সরকারি খালের শ্রেণি পরিবর্তন করে দখল করে নেয়। এতে ঘরবাড়ি তৈরীর পাশাপাশি পুকুর নালা কেটে মৎস্য চাষ করে যাচ্ছে। এসব অবৈদ দখলদারদের কারনে বর্ষা মৌসুমে ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হওয়ায় অনেক কৃষকের বাড়ি-ঘরে ঢুকে পড়ে পানি।
এছাড়া কৃষক জমিতে চাষাবাদ না করতে পাড়ায় জমি অনাবাদী থেকে যায়। এতে অধিকাংশ কৃষক বছর জুড়ে আর্থিক সংকটে পড়ে সীমাহীন দুর্দিনে কাটাচ্ছেন দিন।
অভিযোগ উঠেছে, মো. এমাদুল ও মো. ইসমাইল আকন ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে সরকারী খাল দখল করে নিয়েছে। ওই জায়গায় নতুন করে বালু দিয়ে ভরাটের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তারা বলেও তথ্য পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে উপজেলার চিংগড়িয়া এলাকার গৌতম চন্দ্র হাওলাদার ভূমি মন্ত্রনালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রনালয়ে আবেদন করেও এর সুফল পায়নি। এছাড়া দখলদারদের হাত থেকে খাল রক্ষা করতে উপজেলার বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন একাধিকবার মানববন্ধন করে আবেদন জানালেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন দখলদারদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
এ ব্যাপারে নাগরিক উদ্যোগ কলাপাড়ার আহবায়ক কমরেড নাসির তালুকদার বলেন, সরেজমিনে দেখেছি, কৃষকদের দুর্ভোগের চিত্র। উপজেলা প্রশাসনকে একাধিকবার অবহিত করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
চিংগড়িয়া এবং পশ্চিম বাদুরতলী এলাকার ভুক্তভোগী একাধিক কৃষক জানান, গুটি কয়েক মানুষের কারনে শতশত কৃষক পরিবারের সমস্যা হচ্ছে। ওই ভূমিদস্যুরা সরকারী নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে দখল কাজ অব্যাহত রেখেছে, যা হতাশাজনক বলেও উল্লেখ করেন তারা।
এর আগে অবৈধ দখলকারী মো. এমাদুল ১০-১১-২০২১ তারিখ পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকসহ ৬ কর্মকর্তাকে বিবাদী করে (মামলা নং ১৬৯৫) আদালতে একটি মামলা করলে কলাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইয়াসীন সাদেক বিবাদী পক্ষের বর্ণনায় মামলাটির বিবরন মিথ্যা, বানোয়াট এবং ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেন।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত মো. এমাদুল এবং ইসমাইল হোসেনের সাথে মুঠোফোনে একাধিক বার চেষ্টা করেও যোগাযোগের করা সম্ভব হয়নি।