ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ এপ্রিল ২০২৬ ১২:৪১ পিএম
আপডেট : ০৩ এপ্রিল ২০২৬ ১২:৪২ পিএম
দিনাজপুরে ফুলবাড়ীতে আঞ্চলিক মহাসড়কে চালের বাজার। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
দিনাজপুরে ফুলবাড়ী-দিনাজপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে ফুলবাড়ী পৌরশহরের উর্বশী সিনেকমপ্লেক্সের সামনের সড়কের ওপর নিত্যদিনের চালের হাটবাজারের কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই সড়কের ওপর দিয়ে প্রতিনিয়ত চলাচল করছে ছোট-বড় যানবাহন। ফলে আঞ্চলিক মহাসড়ক সাধারণ যাত্রী ও যানবাহনের জন্য বিপজ্জনক হয়ে ওঠেছে। ঝুঁকিতে থাকতে হচ্ছে ক্রেতা ও বিক্রেতাদেরকে। এরপরও সড়কের ওপর এই অবৈধ চালের হাটবাজার বন্ধের ব্যাপারে কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না সংশ্লিষ্ট প্রশাসন।
ওই এলাকার পুস্তক ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ব্যস্ততম আঞ্চলিক মহাসড়কের ওপর চালের হাটবাজার বসছে। এতে যানবাহন, পথচারীসহ ক্রেতা ও বিক্রেতা সবাইকে ঝুঁকির মধ্যে থাকতে হচ্ছে। এই পথ দিয়ে ছোট যমুনা নদীর পশ্চিম প্রান্তের ফুলবাড়ী সরকারি কলেজ, শহীদ স্মৃতি আদর্শ কলেজ, দারুস সুন্নাহ সিদ্দিকীয় মাদ্রাসা ও অন্তত সরকারি ও বেসরকারি ১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে প্রতিনিয়তই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।
স্থানীয় বাস শ্রমিক আব্দুল খালেক বলেন, ব্যস্ততম এলাকার সড়কের ওপর চালের হাটবাজার বসানোর জন্য প্রায়ই সময় এখানে ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে। তাছাড়া হাটবাজারের কারণে সড়কের প্রশস্ত সরু হওয়োয় যানবাহন চলাচলে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সড়ক থেকে চালের হাটবাজার সরিয়ে নেওয়া একান্ত প্রয়োজন।
আঞ্চলিক মহাসড়কের চালের দোকান বসিয়ে বেচাবিক্রি করা উপজেলার গোকুল গ্রামের জয়ন্ত কুমার বলেন, দীর্ঘদিন থেকে এই সড়কের ওপরই সকালের চালের বেচাবিক্রি হয়ে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় এখনও সকলেই এখানেই চালের ক্ষুদ্র প্রস্তুককারক ও বিক্রেতারা (কুটাইয়া) এখানেই তাদের হাসকিং মিলের তৈরি চাল বিক্রি করতে আসেন। এখান থেকেই স্থানীয়রা বাসাবাড়ীতে খাবার জন্য চাল কিনে থাকেন। বড় দোকানের চেয়ে এখানে চালের দাম সস্তা হওয়ায় এখানে সকালে চালের বেচাবিক্রি একটু বেশি হয়। তবে দুপুর ১২টার মধ্যেই চালের হাটবাজার উঠে যায়।
আরেক ক্ষুদ্র চাল ব্যবসায়ী সেনড়া গ্রামের মতিয়ার রহমান বলেন, আঞ্চলিক মহাসড়কের ওপর চালের হাটবাজার বসার জন্য ঝুঁকি তো রয়েছেই। তবে কি করা যাবে, ব্যবসা তো করে খেতে হবে। গাড়ি ঘোড়ার কারণে নিজেরও ভয় লাগে, তারপরও জীবনের ঝুঁকি থাকলেও দীর্ঘদিন থেকে এখানেই বাড়িতে সেদ্ধ-শুকানোর পর তৈরি করা চাল বিক্রি করতে নিয়ে আসা হয়।
ফুলবাড়ী পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী ও ভারপ্রাপ্ত পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. লুৎফুল হুদা চৌধুরী লিমন বলেন, চালের হাটবাজার তো দীর্ঘদিন ধরে বসছে। এখন অবশ্য সড়কের ওপর চলে এসে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। তবে পৌর প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
দিনাজপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ফুলবাড়ী সড়ক উপ-বিভাগ মো. আমানউল্লাহ আমান বলেন, আঞ্চলিক মহাসড়কের ওপর দোকানপাট তৈরি করে ব্যবসা করার সুযোগ নেই। পৌর কর্তৃপক্ষ, উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে যৌথভাবে হাটবাজার উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।
পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সামিউল ইসলাম বলেন, সড়কপথকে ঝুঁকিমুক্ত করতে সড়কের ওপর থেকে নিত্যদিনের চালের হাটবাজারকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।