মধ্যাঞ্চলীয় অফিস
প্রকাশ : ০৩ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:১৬ এএম
আপডেট : ০৩ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:৩৬ এএম
পাকুন্দিয়ায় পাগলা কুকুরের আক্রমণে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন আহতরা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রূপম দাস ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আরিফুর রহমান হাসপাতালে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
পাকুন্দিয়া উপজেলায় পাগলা কুকুরের কামড়ে নারীসহ অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। পৌর সদরসহ বিভিন্ন এলাকায় বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে এ ঘটনা শুরু হওয়ার পর রাত ৮টা পর্যন্ত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩২ জন চিকিৎসা নিতে আসেন।
হঠাৎ এত রোগীর চাপ সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। গুরুতর আহত কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, উপজেলার পাটুয়াভাংগা ইউনিয়নের পুলেরঘাট বাজার এলাকা থেকে একটি পাগলা কুকুর এই তাণ্ডব শুরু করে। সামনে যাকেই পেয়েছে তাকেই কামড়াতে থাকে।
প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে পৌর সদর বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে মানুষকে আক্রমণ করে কুকুরটি। এ সময় গরু-ছাগলও আক্রান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
আতঙ্কিত মানুষ ছোটাছুটি শুরু করলে পরিস্থিতি আরও বিশৃঙ্খল হয়ে ওঠে। কুকুরটিকে ধরার চেষ্টা করেও কেউ সফল হননি।
অতিরিক্ত রোগীর চাপ
ঘটনার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রূপম দাস ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আরিফুর রহমান হাসপাতালে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, অধিকাংশ আহতের শরীর থেকে রক্ত ঝরছে। কেউ বাইরে বসে ক্ষতস্থানে সাবান দিয়ে ধুচ্ছেন, কেউ জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, রাত ৮টা পর্যন্ত ৩২ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। অতিরিক্ত রোগীর চাপে নার্সদেরও চরম চাপের মধ্যে কাজ করতে হচ্ছে।
ভ্যাকসিন স্বল্পতা
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. নূর-এ-আলম খান জানান, অনেক আহতকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গুরুতরদের জেলা হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, হাসপাতালে থাকা জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিন ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। অনেকেই বাইরে থেকে কিনে টিকা নিচ্ছেন।
আহতদের একজন ইমরান বলেন, হঠাৎ করেই কুকুরটি আক্রমণ করে। এত মুহূর্তেই অনেক মানুষ আহত হয়েছেন কিন্তু কেউই তাকে ঠেকাতে পারেননি।
অন্য আহত খুশনাহার জানান, কুকুরটি কামড়ে মাংস ছিঁড়ে ফেলছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।
মাইকিং করে সতর্কবার্তা
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রূপম দাস বলেন, আক্রান্তদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকারি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কুকুরটিকে ধরতে পুলিশ কাজ করছে এবং মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছে।
এদিকে কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. জালাল উদ্দিন সামাজিক মাধ্যমে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন বলে জানিয়েছেন।
তিনি জানান, ভ্যাকসিনের সাময়িক সংকট থাকলেও দ্রুত তা সংগ্রহ করা হচ্ছে। আক্রান্তদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়েছে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।