× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

হিমাগার সংকটে বিপাকে কৃষক

প্লাবন ‍শুভ, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর)

প্রকাশ : ০২ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:৫০ এএম

ফুলবাড়ী কোল্ড স্টোরেজে কৃষকরা আলু সংরক্ষণের জন্য আনলেও জায়গায় অভাবে ফেরত নিয়ে যাচ্ছেন। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

ফুলবাড়ী কোল্ড স্টোরেজে কৃষকরা আলু সংরক্ষণের জন্য আনলেও জায়গায় অভাবে ফেরত নিয়ে যাচ্ছেন। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

দিনাজপুরের দক্ষিণ-পূর্বাংশের পাঁচ উপজেলার একমাত্র হিমাগার ফুলবাড়ী কোল্ড স্টোরেজে আলু সংরক্ষণের জায়গা না পেয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন ফুলবাড়ী, বিরামপুর, নবাবগঞ্জ, ঘোড়াঘাট ও হাকিমপুর উপজেলার আলুচাষিরা। আলু সংরক্ষণ করতে না পারলে আগামী বছরে আলু চাষে বিরূপ প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।

হাকিমপুর উপজেলার খট্টামাধবপুর ডাঙাপাড়া গ্রামের আলুচাষি মমিনুল ইসলাম এ বছর তিন বিঘা জমিতে আলুর আবাদ করেছেন। একটি ট্রাক্টরে করে ১৯ বস্তা আলু নিয়ে তিনি ফুলবাড়ী কোল্ড স্টোরেজে এসে জানতে পারেন স্টোরেজে আর আলু রাখার জায়গা নেই। ইতোমধ্যে জায়গা পূরণ হয়ে গেছে। স্টোরেজে জায়গা না পেয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে। এতে একদিকে সময় অপচয় হচ্ছে। অন্যদিকে গুনতে হচ্ছে বাড়তি গাড়ির ভাড়া। এবার আলুর বাম্পার ফলন হলেও দাম কম। এতে পরবর্তী সময়ে ভালো দাম পেতে সবাই এখন হিমাগারে আলু রাখতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।

কৃষক মোমিনুল ইসলামের মতো এমন ভোগান্তিতে পড়েছেন একই এলাকার কৃষক এরশাদ আলী, ডাঙ্গাপাড়া এলাকার জাকিরুল ইসলাম, কবির হোসেন, পার্বতীপুরের ভবানীপুর এলাকার নূরুন্নবীসহ শতাধিক আলুচাষি।

সরেজমিন দিনাজপুরের ফুলবাড়ী কোল্ড স্টোরেজে গিয়ে দেখা যায়, শতাধিক ট্রাক্টর, ভটভটি ও ব্যাটারিচালিত ভ্যানভর্তি আলু নিয়ে হিমাগারে ঢোকানোর জন্য এসেছেন বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা। কিন্তু স্টোরেজে এসে জায়গার অভাবে চোখে-মুখে হতাশার ছাপ নিয়ে ফিরতে হচ্ছে বাড়িতে।

কৃষকদের অভিযোগ, আলু সংরক্ষণে কৃষকদের চেয়ে ব্যবসায়ীদের বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকেন হিমাগার কর্তৃপক্ষ। ফলে কৃষকের আলু আসার আগেই ব্যবসায়ী ও ফরিয়াদের আলুতে জায়গা পূরণ হয়ে যায় হিমাগার। এতে প্রকৃত আলুচাষিরা তাদের উৎপাদিত আলু রাখার সুযোগ পাচ্ছেন না। কৃষকরা আলু সংরক্ষণের সুযোগ না পেলে আগামীতে বীজ আলুর সংকট দেখা দেবে এবং আলু চাষে বিরূপ প্রভাব পড়বে।

নবাবগঞ্জ উপজেলার আফতাবগঞ্জ এলাকার নারী কৃষক বিজলী রানী আগামী বছরে আবাদের জন্য বীজ হিসেবে ৫৫ কেজি ওজনের তিন বস্তা আলু আগেভাগে এনে হিমাগারে রেখেছেন। এখন আনলে জায়গার অভাবে রাখতে পারবেন না।

উপজেলার পাকাপান গ্রামের কৃষক শাহাজাহান আলী জানান, চার বিঘা জমিতে আলুর আবাদ করেছেন। ৫৫ কেজি ওজনের ২০ বস্তা আলু বীজ হিসেবে সংরক্ষণের জন্য মনস্থির করেছেন। এজন্য হিমাগারের অবস্থা দেখতে এসে জানতে পারলেন হিমাগারে আলু রাখার মতো আর কোনো জায়গা নেই। আবাদের আলু এখন বিক্রি করে দিয়ে আগামীতে আলুর বীজ কিনেই আবাদ করবেন এমনটাই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

হাকিমপুর উপজেলার লোহাচড়া ডাঙ্গাপাড়া এলাকার কৃষক নূরুন্নবী বলেন, যে পরিমাণ জমিতে আলু আবাদ করেছেন তার বেশিরভাগ আলু হাটবাজারে বিক্রি করে উৎপাদন খরচ মিটিয়েছেন। শুনেছেন এবার হিমাগারে জায়গা নেই, তারপরও এলাকার কয়েকজন কৃষক দুই ট্রাক্টরে ৮০ বস্তা (৫৫ কেজি ওজনের) আলু নিয়ে এসেছেন ফুলবাড়ী কোল্ড স্টোরেজে। গাড়ি ভাড়া দ্বিগুণ পড়েছে, তারপরও লাভের আশায় আলু রাখতে চান। কারণ এখন বাজারে আলুর দাম নিতান্তই কম। কিন্তু হিমাগারে জায়গার অভাবে ফেরত নিতে হচ্ছে আলু। এতে পরিবহন খরচ দ্বিগুণ গুনতে হবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফ আব্দুলাহ মোস্তাকিন বলেন, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১ হাজার ৪৮০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ করা হয়েছে। এর জন্য উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৫ হাজার ৫২০ মেট্রিক টন। আগামীর আলু আবাদের জন্য বীজ সংরক্ষণ করা জরুরি। এজন্য হিমাগারগুলোকে অবশ্যই কৃষকদের আলু বীজ সংরক্ষণের বিষয়টি প্রাধান্য দেওয়া উচিত।

দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) আনিছুজ্জামান বলেন, আলুর দাম কমে যাওয়ায় কৃষকদের পাশাপাশি আলু সংরক্ষণের দিকে ঝুঁকেছেন ব্যবসায়ীরাও। এতে প্রত্যেকটি হিমাগারের ওপর চাপ বেড়েছে। আলু সংরক্ষণের সক্ষমতা বাড়ানো গেলে আলুর আমদানি-নির্ভরতা কমে আসবে। এতে কৃষকরা লাভবান হবেন।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা