× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

মৃতপ্রায় করতোয়ায় প্রাণ ফেরাতে ১,১২২ কোটির প্রকল্প

অরুপ রতন, বগুড়া

প্রকাশ : ০১ এপ্রিল ২০২৬ ১৭:৪৪ পিএম

করতোয়া নদীতে প্রাণ ফিরিয়ে আনতে ১ হাজার ১২২ কোটি টাকার পুনঃখনন প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। ছবি: ফেসবুক থেকে

করতোয়া নদীতে প্রাণ ফিরিয়ে আনতে ১ হাজার ১২২ কোটি টাকার পুনঃখনন প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। ছবি: ফেসবুক থেকে

বগুড়ার মৃতপ্রায় করতোয়া নদীতে প্রাণ ফিরিয়ে আনতে ১ হাজার ১২২ কোটি টাকার পুনঃখনন প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। প্রস্তাবিত এ প্রকল্পের আওতায় নদীটির প্রায় ২৩০ কিলোমিটার গতিপথ পুনঃখনন করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে করতোয়া, ইছামতী ও গজারিয়া নদীতে আবারও স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৬ এপ্রিল জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। একনেকের জন্য তালিকাভুক্ত ১৭টি প্রকল্পের মধ্যে এটি অন্যতম। সম্প্রতি পরিকল্পনামন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতি সভায় প্রকল্পটির চূড়ান্ত খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে দখল, দূষণ ও পানিশূন্যতায় করতোয়া নদী প্রায় মৃতপ্রায় অবস্থায় রয়েছে। পুনঃখনন সম্পন্ন হলে একদিকে যেমন সেচসুবিধা বাড়বে, অন্যদিকে বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদীতীর ভাঙন রোধ এবং দখল-দূষণ প্রতিরোধেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। পাশাপাশি বগুড়া শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখবে এই প্রকল্প।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রকল্পটি অনুমোদিত হলে ২০৩০ সালের জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আওতায় প্রায় ২৪ হেক্টর ভূমি অধিগ্রহণ করা হবে। নদীর তীর সংরক্ষণে ছয় কিলোমিটার এলাকায় স্লোপ প্রোটেকশন, সাড়ে তিন কিলোমিটার তীররক্ষা এবং প্রায় এক কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রমও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

প্রকল্পটি বগুড়ার শিবগঞ্জ, সদর, শাজাহানপুর, দুপচাঁচিয়া, আদমদীঘি, গাবতলী, ধুনট, শেরপুর এবং গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় বাস্তবায়ন করা হবে। সম্পূর্ণ দেশীয় অর্থায়নে এটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রকল্প প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে, করতোয়া নদী একসময় তিস্তা নদীর একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা ছিল। তবে ১৭৮৭ সালের ভয়াবহ বন্যায় তিস্তার গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে যাওয়ায় করতোয়া তার মূল উৎস থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ফলে নদীটি মৌসুমি বৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে এবং ধীরে ধীরে ভরাট ও দখলের শিকার হয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, একসময় এই নদীপথে খুলনা থেকে নৌকায় করে নারকেল আসত এবং নদীকেন্দ্রিক জীবিকার ওপর নির্ভর করতেন অনেক জেলে। কিন্তু আশির দশকে বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য নদীর উৎসমুখে বাঁধ ও স্লুইসগেট নির্মাণের পর পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয়। এরপর থেকেই নদীটির অবক্ষয় শুরু হয়।

পরিবেশবাদী সংগঠন বাপার বগুড়া জেলার সভাপতি প্রকৌশলী মো. সাহাবুদ্দীন সৈকত বলেন, “১৯৮৮ সালে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কাঁটাখালী এলাকায় বাঁধ ও স্লুইসগেট নির্মাণের ফলে করতোয়া নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হয়। এতে বগুড়ার দিকে প্রবাহমান অংশটি ধীরে ধীরে মৃতপ্রায় হয়ে পড়ে। দখল-দূষণ ও সংস্কারের অভাবে নদীটি তার স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য হারিয়েছে”।

বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান বলেন, “গোবিন্দগঞ্জ থেকে বগুড়ার শেরপুর পর্যন্ত পুণঃখননের প্রকল্পের চিন্তা করছে সরকার৷ এখনও এটি একনেকে পাশ হয়নি। আগে যে ২৮ কিলোমিটার পুনঃখনন করা হয়েছিল সেটির কোন কাজ করা হবে না৷ কিন্তু বাকি কিলোমিটার কাজ করতে যেয়ে যদি ওই ২৮ কিলোমিটারের মধ্যে কোন সংস্কার প্রয়োজন লাগে তাহলে সেটি করা হবে”।

বগুড়ার জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান বলেন, “করতোয়া নদী পুনঃখননের মাধ্যমে এর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।  পাশাপাশি নদীর তীর সংরক্ষণ এবং কিছু স্থানে বিনোদন ও শিশুদের খেলার মাঠ তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে”।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা