× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

২০ হাজার টাকার উদ্যোগের ঢেউ এখন দেশ পেরিয়ে বিদেশে

ইসমাইল মাহমুদ, মৌলভীবাজার

প্রকাশ : ০১ এপ্রিল ২০২৬ ১১:০৫ এএম

আপডেট : ০১ এপ্রিল ২০২৬ ১১:০৭ এএম

বাঁশের তৈরি দৃষ্টিনন্দন আসবাবপত্র নিয়ে সফলতার গল্প গড়ছেন আমির হোসেন সিরাজ। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

বাঁশের তৈরি দৃষ্টিনন্দন আসবাবপত্র নিয়ে সফলতার গল্প গড়ছেন আমির হোসেন সিরাজ। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার বড়চেগ গ্রামের উদ্যোক্তা আমির হোসেন সিরাজের তৈরি বাঁশ-বেতের আসবাবপত্র এখন দেশ ছাড়িয়ে বিদেশেও সমাদৃত হচ্ছে। সম্পূর্ণ নিজ উদ্যোগে গড়ে তোলা তার এই কুটির শিল্প আজ সাফল্যের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

১৯৯৮ সালে পরিবারের ব্যবহারের জন্য কোনো প্রশিক্ষণ ছাড়াই বাঁশ-বেত দিয়ে কিছু আসবাব তৈরি করেন তিনি। তার বাড়ি ও নার্সারিতে আসা অতিথিরা এসব দেখে আগ্রহ প্রকাশ করলে সেখান থেকেই বাণিজ্যিকভাবে কাজ শুরু করার অনুপ্রেরণা পান।

২০০৩ সালে মাত্র ২০ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন ‘সিরাজ কুটির শিল্প’। নিজ বাড়ির পাশে ছোট পরিসরে শুরু হলেও ধীরে ধীরে এটি বড় প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়।

নিজের কারখানায় বাঁশ-বেতের আসবাবপত্র তৈরিতে ব্যস্ত সিরাজ। ছবি: প্রতিদিনর বাংলাদেশ

প্রথমে একাই কাজ করলেও সময়ের সঙ্গে যুক্ত হয় শ্রমিক। বর্তমানে প্রায় ১৫ জন কর্মী এখানে কাজ করছেন এবং কারখানার পরিধিও অনেক বেড়েছে।

এখানে খাট, সোফাসেট, খাবার টেবিল, সাজসজ্জার টেবিল, পড়ার টেবিল, চেয়ার, আলনা, ফুলের টবসহ বিভিন্ন ধরনের আসবাব তৈরি করা হয়। পাশাপাশি পর্যটন কেন্দ্র, আবাসন ও খাবার প্রতিষ্ঠানের জন্যও তৈরি করা হচ্ছে নানা সামগ্রী।

মৌলভীবাজারের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র, আবাসন ও খাবার প্রতিষ্ঠানে তার তৈরি আসবাব দিয়ে সাজানো হয়েছে। শুধু আসবাব নয়, বাঁশ-বেত দিয়ে আধুনিক নকশার ঘরও নির্মাণ করছেন তার প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা।

প্রায় দুই দশকে তার প্রতিষ্ঠানের সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে দেশজুড়ে। বর্তমানে প্রতি বছর গড়ে ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকার পণ্য বিক্রি হচ্ছে তার প্রতিষ্ঠান থেকে।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পণ্য পাঠানোর পাশাপাশি বিদেশেও যাচ্ছে এসব আসবাব। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের কাতারে নিয়মিতভাবে তার তৈরি পণ্য রপ্তানি হচ্ছে।

প্রথমে একাই কাজ করলেও সময়ের সঙ্গে বেড়ে বর্তমানে কর্মীসংখ্যা প্রায় ১৫, সেই সঙ্গে বেড়েছে সিরাজের দোকানের পরিধিও। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

সিরাজ জানান, শুরুতে অল্প পুঁজিতে কাজ শুরু করলেও এখন মাসিক ব্যয় দাঁড়িয়েছে লক্ষাধিক টাকায়। দেশের নানা প্রান্তে গ্রাহকদের কাছে পণ্য পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন মাধ্যমে।

তিনি স্থানীয় গ্রামগুলো থেকে বাঁশ সংগ্রহ করে তা প্রক্রিয়াজাত করেন। শুকানো ও ঔষধ প্রয়োগের মাধ্যমে পোকামাকড়মুক্ত করে তৈরি করা হয় টেকসই আসবাব।

এই ব্যবসার আয়েই বদলে গেছে তার পরিবারের আর্থিক অবস্থা। তিনি নিজের জন্য দৃষ্টিনন্দন দুইতলা বাঁশের বাড়িও নির্মাণ করেছেন, যা এখন দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।

স্থানীয় তরুণদের জন্য আমির হোসেন সিরাজ এখন এক অনুপ্রেরণার নাম। তার সাফল্য প্রমাণ করে, দৃঢ় ইচ্ছা ও পরিশ্রম থাকলে ছোট উদ্যোগ থেকেও বড় সাফল্য অর্জন সম্ভব।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা