কুড়িগ্রাম প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩১ মার্চ ২০২৬ ১৫:১৬ পিএম
সাংবাদিক না হয়েও সাংবাদিকদের মতো ভঙ্গিতে ভিডিও তৈরি করেন তাজু। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
হাতে বুম, উপস্থাপনায় আত্মবিশ্বাস, ভাষায় সরলতা- সব মিলিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন এক পরিচয়ে সামনে এসেছেন কুড়িগ্রামের তরুণ তাইজুল ইসলাম তাজু। ‘জিলাপির সরকারি দাম’ নিয়ে তার একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর অল্প সময়েই বেড়ে গেছে তার পরিচিতি ও অনুসারী।
এর পর থেকেই পেশাদার সাংবাদিক না হয়েও সাংবাদিকদের মতো ভঙ্গিতে ‘লাইভ’ আদলে ভিডিও তৈরি করে এলাকার নানা সমস্যা তুলে ধরছেন তিনি।
নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়নপুর ইউনিয়নের সরকারপাড়া চর গ্রামের বাসিন্দা তাজু। সিরাজ-তাহেরা দম্পতির বড় ছেলে তিনি। ছয় ভাইবোনের মধ্যে জ্যেষ্ঠ তাজু জীবিকার তাগিদে রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করেন। দীর্ঘদিন ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করেছেন তিনি।
সম্প্রতি ঈদে বাড়িতে এসে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে ২৬ মার্চের অনুষ্ঠান দেখতে গিয়ে হঠাৎ করেই ‘জিলাপির সরকারি দাম’ নিয়ে একটি ভিডিও তৈরি করেন। সেটিই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলে। এরপর থেকে গ্রামের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে ধারাবাহিকভাবে ভিডিও তৈরি করছেন তিনি।
তবে তার এই জনপ্রিয়তার আড়ালে রয়ে গেছে জীবনের কঠিন বাস্তবতা। স্থানীয় সূত্র জানায়, নদীভাঙনের কবলে পড়ে তাজুর পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে বর্তমানে অন্যের জায়গায় বসবাস করছে। অভাবের কারণে টেকেনি তার দাম্পত্য জীবন। অসুস্থ বাবা-মা ও ছোট ভাইবোনদের দেখভালের দায়িত্বও তার কাঁধে।
তাজু জানান, প্রায় দেড় বছর আগে মনের কষ্ট ভুলে থাকতে ভিডিও বানানো শুরু করেন তিনি। ভাইরাল হওয়ার পরও এখনও কোনও আর্থিক সুবিধা পাননি। তার ফেসবুক পেজে মনিটাইজেশন চালু না থাকায় ভিডিও থেকে আয় হচ্ছে না।
তাজু বলেন, “মানুষ ভালোবাসা দিছে, ভিডিও ভাইরাল হইছে। কিন্তু কষ্ট তো কমে নাই। পেজে মনিটাইজেশন নাই, আয়ও নাই। সংসার চালানো কঠিন। ভাবতেছি আবার ঢাকায় গিয়ে কাজ করমু- কাজ না করলে তো পরিবারে ভাত জুটবে না।”
স্থানীয় বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম বলেন, “তাজু আমাদের এলাকার গর্ব। তার সরলতা আর প্রতিভাকে সম্মান করা উচিত। কেউ যেন তাকে নিয়ে বিদ্রূপ না করে। সবাই পাশে দাঁড়ালে সে আরও এগিয়ে যাবে।”
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলেন, তাজু পেশাদার সাংবাদিক নন এবং নিজেকে কখনও সে পরিচয়ে তুলে ধরেননি। তবে এলাকার সমস্যা সবার সামনে তুলে ধরতে তিনি সাংবাদিকদের মতো করেই ভিডিও তৈরি করেন।