প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ৩০ মার্চ ২০২৬ ১৭:৫৬ পিএম
যোশেফ দাশগুপ্ত যশো। ফাইল ফটো
মানুষের সেবা আর শেকড়ের টানে সুদূর কানাডা থেকে নিজের জন্মভূমি শ্রীমঙ্গলে ফিরে আসতে চান বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক যোশেফ দাশগুপ্ত যশো। চার দেশের নাগরিকত্ব এবং ইউরোপ-কানাডায় বিস্তৃত ব্যবসা থাকার পরও তার হৃদয়ে মিশে আছে বাংলাদেশ। জীবনের শেষ সময়টুকু তিনি শ্রীমঙ্গল উপজেলার মানুষের সেবায় ও এলাকার উন্নয়নে ব্যয় করতে চান।
শ্রীমঙ্গলের মির্জাপুর ইউনিয়নের বৌলাশির গ্রামে জন্ম নেওয়া যশো ইন্টারমিডিয়েট পাসের পর পাড়ি জমান ইউরোপে। কাজের পাশাপাশি চালিয়ে যান পড়াশোনা। তিনি ২০২১ সালে বেলজিয়ামের ইউনিভার্সিটি অব ল্যুভেন থেকে 'ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস' এবং ২০২৩ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট ল’ বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনে ব্যাচেলর অব ল (LLB) অধ্যয়ন করছেন, যা ২০২৯ সালে সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
কানাডার ম্যানিটোভা থেকে ‘ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা’ হিসেবে প্রশিক্ষণ নিয়ে যাত্রা শুরু করা যশো বর্তমানে একজন সফল ব্যবসায়ী। কানাডা, ব্রিটেন এবং বেলজিয়ামে তার প্রতিষ্ঠিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশসহ এই চার দেশেরই নাগরিক।
সম্প্রতি কানাডার একটি বাংলা টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে যশো তার মনের সুপ্ত ইচ্ছার কথা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, জীবনের শেষ সময়টা তিনি দেশের সেবায়, মানুষের সেবায় কাটাতে চান। এখন তিনি মা, মাটি ও মানুষের কাছে ফিরতে চান। আর এই সেবা করার সুযোগ হিসেবে তিনি জনপ্রতিনিধি হতে চান।
সার্বক্ষণিক এলাকার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করে চলেছেন। গরীব অথচ মেধাবী শিশুদের পড়াশোনা সুযোগ করে দিচ্ছেন। কন্যা দায়গ্রস্ত বাবার মেয়ের বিয়েতে সাহায্য করছেন । ক্রীড়াঙ্গন থেকে সাংস্কৃতিক জগৎ সবখানেই তিনি সাহায্য করছেন নীরবে। স্থানীয় নির্বাচনের কোনো শিডিউল ঘোষণা যদিও হয়নি তারপরও তিনি যোগাযোগ রেখে চলেছেন পুরো শ্রীমঙ্গল উপজেলা জুড়ে।
শ্রীমঙ্গল উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় ২,৬৫,৬৪৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১,৩৫,৭৩৭ জন এবং নারী ভোটার ১,২৯,৯০৮ জন।
চা-শ্রমিক জনগোষ্ঠী মোট ভোটারের একটি বড় অংশ চা-বাগানের শ্রমিক। তাদের ভোট ঐতিহাসিকভাবে ‘ব্লক ভোট’ হিসেবে পরিচিত। এই চা শ্রমিকদের জন্য তিনি অকাতরে বিভিন্ন উপলক্ষ্যে দান করেছেন। পাশে ছিলেন বিভিন্ন সময়ে।
সংখ্যালঘু সম্প্রদায় প্রায় প্রতিটি নির্বাচনে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটাররা ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তারা চায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির নিশ্চয়তা, নিরাপত্তা ও উন্নয়ন। যশো তাদেরও মন জয় করেছেন বলে এলাকাবাসীর অনেকেই মনে করেন।
এছাড়া কৃষক, দিনমজুর ও মধ্যবিত্ত শ্রেণি যশোকে স্বভাবই তাদের পাশে পেতে চায় বলে যশো জানিয়েছেন কানাডার বাংলাটিভিকে। কানাডার বেঙ্গলী টাইমসের এর সম্পাদক শহিদুল ইসলাম মিন্টু যশো সম্পর্কে বলেন, “তিনি যদি দেশে ফিরে গিয়ে মানুষের পাশে দাড়ান তাহলে তার অঞ্চলের মানুষ সত্যি সবদিক থেকে উপকৃত হবে। কারণ যশোর এখন আর পাওয়ার কিছু নেই, দেওয়ার আছে প্রবল ইচ্ছে”।