মধ্যাঞ্চলীয় অফিস
প্রকাশ : ৩০ মার্চ ২০২৬ ১০:২২ এএম
শাহ আজম ওরফে প্রান্ত। ফাইল ছবি
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় থার্টিফাস্ট নাইট উপলক্ষে বারবিকিউ রান্নার কথা বলে ডেকে নিয়ে এক গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে দরবার শরীফের খাদেমের বিরুদ্ধে।
কৌশলে সেই ঘটনার ভিডিও করে তা ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাকে একাধিকবার ধর্ষণও করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী পাকুন্দিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযুক্ত খাদেম শাহ আজম ওরফে প্রান্ত উপজেলার পাটুয়াভাঙ্গা ইউনিয়নের মহিষবের গ্রামের মৃত মতিন শাহের ছেলে ও উপজেলার পাটুয়াভাঙ্গা ইউনিয়নের মহিষবের গ্রামে অবস্থিত বিশ্ব রাহে রাজ ভান্ডার দরবার শরীফের খাদেম এবং ভুক্তভোগীর চাচাত দেবর।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগীর স্বামী দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে থাকেন। স্বামীর অনুপস্থিতিতে তিনি শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করছিলেন। গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর থার্টিফাস্ট নাইট উপলক্ষে বারবিকিউ রান্নার কথা বলে অভিযুক্ত প্রান্ত তাকে নিজের ঘরে ডেকে নেয়। সেখানে রাত আনুমানিক ১০টার দিকে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন অভিযুক্ত খাদেম প্রান্ত। এ সময় ভুক্তভোগী চিৎকার করতে চাইলে তাকে হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনা প্রকাশ করলে সংসার নষ্ট হয়ে যাবে বলে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে অভিযুক্ত তাকে চুপ থাকতে বাধ্য করে। ধর্ষণের পর শুরু হয় আরও নৃশংস অধ্যায়। কৌশলে সেই ধর্ষণের ঘটনার ভিডিও করে তা ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাকে একাধিকবার ধর্ষণও করার অভিযোগ উঠেছে।
এ দিকে এ ঘটনাটি স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য সাদেক মিয়ার নেতৃত্বে স্থানীয়ভাবে সমাধানের উদ্যোগ নিলেও ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে বিষয়টি পরিবারকে জানালে তাদের পরামর্শে গত শুক্রবার ভুক্তভোগী বাদী হয়ে পাকুন্দিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, এমন ঘটনা সামাজিক জীবনের জন্য অশনি সংকেত। ভুক্তভোগী নারী দীর্ঘদিন নির্যাতনের শিকার হয়েও শেষ পর্যন্ত আইনের আশ্রয় নিয়েছেন। তার এই সাহসিকতাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
ভুক্তভোগী নারী বলেন, “আমি প্রান্তরে বহু কাকুতি মিনতি করে বলেছি, ছবি ও ভিডিও ডিলিট বা মুছে ফেলার জন্য। কিন্তু সে এ ভিডিও ও ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছে এবং আমার ওপর বারবার শারিরিক ও মানসিক অত্যাচার-নির্যাতন করে। শেষে আমি নিরুপায় হয়ে মামলা করেছি।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শাহ আজম ওরফে প্রান্তর সাথে যোগাযোগ করার জন্য তার ব্যবহৃত ফোন নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।
পাকুন্দিয়া থানার (ওসি) তদন্ত কর্মকর্তা মোবারক হোসেন বিষয়টি প্রতিদিনের বাংলাদেশকে নিশ্চিত করে জানান, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।