উন্নত জীবনযাপনের আশায় দালাল চক্রের খপ্পরে পড়ে লিবিয়া থেকে ইতালি যেতে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে অনাহার ও রোগাক্রান্ত হয়ে অন্তত ২২ জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। নিহত বাংলাদেশিদের মধ্যে ১১ জনের বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর, দিরাই ও দোয়ারাবাজার উপজেলায়।
সহায় সম্বল ও জমিজমা বিক্রি করে সাগর পাড়ি দিতে গিয়ে সলিল সমাধি হয়েছে ইউরোপ স্বপ্নে বিভোর এই তরুণদের। পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্যদের হারিয়ে শোকর মাতম চলছে নিহতদের পরিবারে। স্বজনদের আহাজারি যেন থামছেই না। তারা চান স্বজনের লাশ ফিরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি দালাল চক্রের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা।
ভূমধ্যসাগরে মৃত্যু হওয়া জগন্নাথপুর উপজেলার নাঈম মিয়ার মা আঁখি বেগম সন্তানের জন্য গগনবিদারী আহাজারি করছিলেন। শেষবারের মতো দেখতে চান সন্তানকে। সন্তানের স্মৃতিচারণ করে বারবার মূর্ছা যান আঁখি বেগম।
পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছে, গেল বছরের ডিসেম্বরে পাশের গ্রামের আজিজ নামের এক দালালের মাধ্যমে ১৩ লাখ টাকায় লিবিয়া যান জগন্নাথপুর চিলাউড়া গ্রামের ডুবাই ফেরত যুবক নাঈম মিয়া। দীর্ঘদিন লিবিয়া আটকা থাকার পর কথা ছিল গত ২১ মার্চ সাগর পাড়ি দিয়ে ইতালিতে যাবেন তিনি। একসঙ্গে ৪৫ জন অভিবাসন প্রত্যাশীর সাগর পাড়ি দিতে গিয়ে অনাহারে নাইমসহ সুনামগঞ্জের ১১ তরুণের মৃত্যু হয়।
ভূমধ্যসাগরে মৃত্যুরবরণকারীদের মধ্যে দিরাই উপজেলার ৪ জন, জগন্নাথপুর উপজেলার ৬ ও দোয়ারাবাজার উপজেলার ১ জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে।
নিহতরা হলেন– দিরাই উপজেলা জগদল ইউনিয়নের তারাপাশা গ্রামের আবু সর্দারের ছেলে মো. নুরুজ্জামান সর্দার ময়না (৩০), আব্দুল গনীর ছেলে মো. সাজিদুর রহমান (২৮), মৃত ক্বারী ইসলাম উদ্দীনের ছেলে মো. সাহান (২৫), রাজানগর ইউনিয়ন জাহানপুর গ্রামের মৃত আব্দুল মালেকের ছেলে মুজিবুর রহমান (৩৮)।
জগ্ননাথপুর উপজেলার নিহত ৬ জনের মধ্যে টিয়ারগাও এলাকার শায়েখ আহমদ জয়, ইছগাঁও গ্রামের মো আলী, পাইলগাঁও গ্রামের আমিনুর রহমান ও বাউরী গ্রামের মো. সোহানূর, কবিরপুর গ্রামের মো.নাইম ও চিলাউরা গ্রামের ইজাজুল এবং দোয়ারাবাজার উপজেলার অব্র ফাহিম নামের আরও এক যুবক নিহত হয়েছেন।
স্বজনদের অভিযোগ, মানবপাচারকারীরা অভিবাসন প্রত্যাশীদের ১৩ লাখ টাকার বিনিয়োগ গ্রিস নিয়ে যাবে বলে টাকা নেয়। সর্বশেষ সপ্তাহ দিন আগে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে।
অভিবাসন প্রত্যাশীদের মৃত্যুর খবরে পরিবারে চলছে শোকের মাতম। দ্রুত তাদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে দাবি জানায় স্বজনরা।
এদিকে, দালালদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া।