হাওরাঞ্চল প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৮ মার্চ ২০২৬ ১২:৪৯ পিএম
আপডেট : ২৮ মার্চ ২০২৬ ১২:৫১ পিএম
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলায় রোকেয়া আক্তার নামে অন্তঃসত্ত্বা এক নারীর পেটে লাথি মারলে তিনি মৃত কন্যাসন্তান প্রসব করেন। প্রতীকী ছবি
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলায় গরু লুটকে কেন্দ্র করে এক ভয়াবহ সহিংস ঘটনার অভিযোগ উঠেছে। হামলার সময় বাধা দেওয়ায় রোকেয়া আক্তার (৩৮) নামে ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক নারীর পেটে লাথি মারার ফলে তিনি মৃত কন্যাসন্তান প্রসব করেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় কয়েকজন ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে সুয়াইর ইউনিয়নের হাটনাইয়া-আলীপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহত গৃহবধূ রোকেয়া আক্তার ওই গ্রামের ওলিউল্লার স্ত্রী। আগামী ১৫ এপ্রিল তার স্বাভাবিক ডেলিভারির কথা ছিল বলে জানিয়েছে পরিবার।
পরিবারের দাবি, প্রতিপক্ষের কয়েকজন লোক রাতের অন্ধকারে গরু লুটের উদ্দেশ্যে বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় রোকেয়া বাধা দিলে তাকে এই আঘাত করা হয়।
পূর্ববিরোধের জের ধরে সংঘর্ষ
স্থানীয় কয়েকজনের ভাষ্যমতে, ১৪ মার্চ ওলিউল্লার ভাগ্নের হাঁস নেমে আংগুর মিয়ার ডোবার পানি ঘোলা করাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়। ওই ঘটনায় সংঘর্ষে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন।
এ সময় আংগুর মিয়ার পক্ষের লোকজন হাঁস লুট করে নিয়ে যায় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
পরবর্তীতে এ ঘটনায় আংগুর মিয়া ওলিউল্লাহসহ তার পরিবার ও আত্মীয়দের আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
এরপর গ্রেপ্তার এড়াতে ওলিউল্লাহসহ পরিবারের পুরুষ সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে চলে যান বলে জানা গেছে।
পরে বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে ওলিউল্লার বাড়িতে পুলিশ অভিযান চালালেও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
পরিকল্পিত হামলায় গর্ভের সন্তানকে হত্যার দাবি
অভিযোগ অনুযায়ী, ওই রাতেই আনুমানিক সাড়ে তিনটার দিকে আংগুর মিয়ার নেতৃত্বে ১৫–২০ জনের একটি দল ওলিউল্লার বাড়িতে হামলা চালায় এবং গরু লুটের চেষ্টা করে। বাড়িতে পুরুষ সদস্য না থাকায় অন্তঃসত্ত্বা রোকেয়া বাধা দিতে এগিয়ে যান।
এ সময় আংগুর মিয়া তার পেটে লাথি মারেন, এবং অন্যরাও তাকে কিলঘুষি মারতে থাকে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
পেটে লাথি লাগার পর তিনি তীব্র ব্যথায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং চিৎকার শুরু করেন। আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। এর কয়েক ঘণ্টা পর তিনি মৃত কন্যাসন্তান প্রসব করেন।
পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহায়তায় রোকেয়াকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা নবজাতককে মৃত ঘোষণা করেন। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পরিবারের দাবি, এটি পূর্বপরিকল্পিত হামলা এবং এর মাধ্যমে তাদের গর্ভের সন্তানকে হত্যা করা হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।
অভিযুক্তদের কাউকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা। ঘটনার পর তারা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।