× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

দৌলতদিয়ায় বাসডুবি

নিজের জীবন দিয়ে সন্তানকে বাঁচালেন মা

রাজবাড়ী প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২৮ মার্চ ২০২৬ ১০:২৫ এএম

মাকে হারিয়ে দিশেহারা শিশু আলিফ। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

মাকে হারিয়ে দিশেহারা শিশু আলিফ। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

“মায়ের সঙ্গে বাসে ঢাকায় ফিরছিলাম। মা আর আমি পাশাপাশি বসেছিলাম। ফেরিঘাটে হঠাৎ বাস নদীতে পড়ে। এ সময় মা নিজে না বেরিয়ে আমাকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়। পরে এক ব্যক্তি গামছা দিয়ে আমাকে টেনে ওপরে তোলেন। পরে আর মাকে আমি দেখিনি।”

কথাগুলো রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় বাসডুবির ঘটনায় মারা যাওয়া গার্মেন্সকর্মী জোৎস্না বেগমের (৩৫) শিশু সন্তান আলিফ মোল্লার (১০)।

নিহত জ্যোৎস্না বেগম রাজবাড়ী সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের বড় চর বেনিনগর গ্রামের মান্নান মণ্ডলের স্ত্রী। জ্যোৎস্না বেগম ঢাকার বাইপাইলের একটি তৈরি পোশাক কারখানায় চাকরি করতো। পাঁচ বছর ধরে জ্যোৎস্নার সঙ্গে তার স্বামীর ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। তখন থেকেই ছেলে আলিফকে নিয়ে ঢাকার বাইপাইলে থাকতেন জ্যোৎস্না। আলিফ বাইপাইলে একটি মাদ্রাসায় লেখাপড়া করতো।

সরেজমিনে জ্যোৎস্না বেগমের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, পুরো বাড়িতে শোকের মাতম। জোৎস্নাকে হারিয়ে পাগলপ্রায় তার বড় বোন আসমা বেগম। জ্যোৎস্নার মা শাহেদা বেগমও ছোট মেয়েকে হারিয়ে নির্বাক। মেয়ের কথা ভেবে কান্না আর আহাজারি করছেন। কিছু সময় চুপ হয়ে যাচ্ছেন।

জোৎস্নার মা শাহেদা বেগম বলেন, “দৌলতদিয়া ঘাট থেকে জ্যোৎস্না ফোন দিয়ে বলে, ‘মা আমরা এখন ঘাটে’। এ কথা বলতে বলতেই ফোনের ওপাশ থেকে চিৎকারের শব্দ শুনতে পাই। তখন জ্যোৎস্না আমাকে বলে, ‘আম্মা বাস পদ্মায় পড়ে যাচ্ছে’। এরপর আর কোনও কথা শুনিনি। আমার মেয়েটা ফোনে কথা বলতে বলতে নদীর মধ্যে চলে গেল।”

তিনি আরও বলেন, “গত ১৯ মার্চ ঈদের ছুটিতে জ্যোৎস্না বেগমের সঙ্গে এসেছিল আলিফ। ছুটি শেষে গত ২৫ মার্চ ঢাকার বাইপাইলে ফেরার কথা ছিল তাদের। এজন্য রাজবাড়ী বড়পুল থেকে সৌহার্দ্য পরিবহনের ৩টা ২০ মিনিটের ট্রিপে তাদের আমি উঠিয়ে দিয়ে আসি।”

গত বুধবার সোহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার বলেন, “নিহতের প্রত্যেক পরিবারকে দাফন সম্পন্নের জন্য ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া, আহতদের ১৫ হাজার টাকা দেওয়া হবে। নিহতদের পরিবারের জন্য স্থায়ীভাবে কিছু করা যায় কি না সে বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলছি।”

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা