ফেনী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৮ মার্চ ২০২৬ ০৯:৩৫ এএম
ফেনীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি। কোলাজ: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
ফেনীতে বৈধ লাইসেন্স ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া মোটরযানে জ্বালানি তেল দেওয়া হচ্ছে না। পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের অভিযানে জরিমানার মুখে পড়ছেন মোটরসাইকেল চালকরা।
শহরের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে শুক্রবার বিকালে এমন চিত্র দেখা গেছে। তেল নিতে গিয়ে ভোগান্তি ও দীর্ঘ অপেক্ষার অভিযোগ করছেন চালকরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, ফিলিং স্টেশনগুলোতে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পর প্রাইভেট কারে সর্বোচ্চ ১ হাজার টাকা এবং মোটরসাইকেলে ২০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেলা পুলিশ ও ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা কাজ করছেন। একই সঙ্গে লাইসেন্সবিহীন মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসনের অভিযানও অব্যাহত রয়েছে।
শহরের জেল রোডের একটি ফিলিং স্টেশনে অভিযানের সময় বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারায় তিন মোটরসাইকেল চালককে ৫০০ টাকা করে মোট ১ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়।
এ সময় হেলমেটবিহীন চালকদের সচেতন করতেও দেখা যায়। কর্তৃপক্ষ বলছে, নিয়ম মানতে বাধ্য করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মোটরসাইকেল চালক শফিক আহমেদ বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে এমনিতেই সমস্যা হচ্ছে। তার ওপর কাগজপত্র নিয়ে বাড়তি ঝামেলায় পড়তে হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, প্রতিদিন প্রায় দুই ঘণ্টা সময় নষ্ট হচ্ছে শুধু তেল নেওয়ার জন্য। তেলের সীমা বাড়ানো হলে কিছুটা স্বস্তি মিলত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আরেক চালক আজাদ জানান, ৩০ থেকে ৩৫ মিনিট লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিতে হচ্ছে। ২০০ টাকার বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না, যা প্রয়োজনের তুলনায় কম।
তিনি বলেন, লাইসেন্স, গাড়ির কাগজপত্র ও হেলমেট ছাড়া তেল না দেওয়ায় অনেকেই সমস্যায় পড়ছেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় আরও সহনশীল হওয়া উচিত বলে মত দেন তিনি।
ফেনী জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার চয়ন বড়ুয়া জানান, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ফিলিং স্টেশনগুলো তেল বিক্রি করছে কি না তা নজরদারি করা হচ্ছে। পাশাপাশি চালকদের বৈধ কাগজপত্র যাচাই করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, সংকটের মধ্যে সবাই যেন সমানভাবে জ্বালানি পায়, সে লক্ষ্যেই এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
এর আগে বুধবার (২৫ মার্চ) রাতে জেলা প্রশাসকের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে কাগজপত্র ছাড়া মোটরযানে তেল সরবরাহ না করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়।
বিজ্ঞপ্তির পর থেকে ট্রাফিক পুলিশ, জেলা পুলিশ ও সেনাবাহিনী শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অভিযান পরিচালনা করছে।