নওগাঁ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ মার্চ ২০২৬ ১৭:৪৬ পিএম
২৯ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২২ সালের অক্টোবরের মধ্যে। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলায় আত্রাই নদীর ওপর নির্মাণাধীন কালনা-বিষ্ণুপুর সেতু প্রায় আট বছরেও আলোর মুখ দেখেনি। নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে গেছে সাড়ে তিন বছরেরও বেশি, কিন্তু কাজের অগ্রগতি থেমে আছে প্রায় ৬৫ শতাংশে। ফলে সেতুটি এখন শুধু একটি অপূর্ণ অবকাঠামো নয়, হয়ে উঠেছে হাজারো মানুষের দৈনন্দিন ভোগান্তির প্রতীক।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, ২৬২ মিটার দীর্ঘ সেতুটি নির্মাণের জন্য ২০১৮ সালের জুনে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। প্রায় ২৯ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২২ সালের অক্টোবরের মধ্যে। তবে বাস্তবে নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও কাজের গতি থমকে আছে, আর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কার্যত অনুপস্থিতিতে প্রকল্পটি অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
ধীরগতি থেকে স্থবিরতা, কেন থেমে গেল কাজ?
সরেজমিনে দেখা যায়, নির্মাণস্থলে নেই কোনো শ্রমিকের উপস্থিতি। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে নির্মাণসামগ্রী, আর নদীর মাঝে অসম্পূর্ণ অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে সেতুর পিলার। সাতটি স্প্যানের পরিকল্পনা থাকলেও বাস্তবে নির্মিত হয়েছে মাত্র পাঁচটি, তাও অসম্পূর্ণভাবে।

প্রকল্প-সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, শুরু থেকেই ধীরগতিতে কাজ চলছিল। পরে আর্থিক সংকটের কথা জানিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ বন্ধ করে দেয়। দীর্ঘদিন ধরে তাদের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় প্রকল্পটি কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে।
ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ
দীর্ঘ সময়েও সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ না হওযায় উপজেলার হাতুড় ইউনিয়নের মহিষবাথান ও এনায়েতপুর ইউনিয়নের দু’পাড়ের মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে।। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় পারাপার করতে হচ্ছে শিক্ষার্থী, কৃষক, শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে।
স্থানীয় বাসিন্দা রিয়াজ উদ্দিন বলেন, “কাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই ঠিকাদার তাঁর ইচ্ছামতো কাজ করায় এখনও কাজ শেষ হয়নি। দীর্ঘদিন হলো কাজ বন্ধ করে ঠিকাদার চলে গেছে। এভাবে কাজ করলে কবে শেষ হবে, তা কেউ বলতে পারবেন না”।
সালেক মিয়া বলেন, “আমাদের ভোগান্তির শেষ নেই। গ্রামের অসুস্থ বা গর্ভবতী নারীকে জরুরিভাবে উন্নত চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিতে হলে অন্তত ১২ থেকে ১৫ কিলোমিটার পথ ঘুরে যেতে হয়। সেতুটি হলে তাড়াতাড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে পারবো”।

স্কুল শিক্ষার্থী আখি আক্তার জানায়, স্কুলে যাওয়া-আসার সময় ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার হয়ে স্কুলে যেতে হয়। আবার অনেক সময় নৌকার কারণে দেরি হয়ে যায়।
মহিষবাতান এলাকার কৃষক করিম উদ্দিন বলেন, “কয়েক বছর আগে কাজ শুরু করা হয়। কিন্তু শেষ হওয়ার কোনো নাম নেই। সেতুটির কাজ দ্রুত শেষ হলে আশেপাশের কয়েক গ্রামের উৎপাদিত ফসল সহজেই বাজারে নিয়ে বিক্রি করা যাবে।”
প্রশাসনের বক্তব্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ইঞ্জিনিয়ার সিহাব হোসেন জানান, আর্থিক সমস্যার কারণে কাজ বন্ধ রয়েছে এবং মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন করা হয়েছে।
উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) সৈকত দাস বলেন, “বারবার তাগাদা দেওয়ার পরও কাজের গতি বাড়েনি। প্রয়োজনে নতুন টেন্ডারের মাধ্যমে ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে সেতুটি চালুর উপযোগী করা হবে”।