চুয়াডাঙ্গা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ মার্চ ২০২৬ ০৯:৫৮ এএম
আপডেট : ২৭ মার্চ ২০২৬ ১০:৫২ এএম
স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে ঘোষক বিতর্ক ঘিরে চুয়াডাঙ্গায় বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হলেও তা দ্রুত উত্তেজনায় রূপ নেয়। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
মহান স্বাধীনতা দিবসের এক অনুষ্ঠানে স্বাধীনতার ঘোষকের নাম উল্লেখকে কেন্দ্র করে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে বাক-বিতণ্ডার এক পর্যায়ে হাতাহাতির পরিস্থিতি তৈরি হয়।
এ সময় এক জামায়াত নেতাকে ‘খেয়ে ফেলার হুমকি’ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপির এক নেতার বিরুদ্ধে।
উপজেলার নাটুদা ইউনিয়নে বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত স্বাধীনতা দিবসের এক অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তবে সঞ্চালনার সময় প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নাম স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে উল্লেখ না করায় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
উত্তেজনা থেকে হাতাহাতির পরিস্থিতি
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বিষয়টি নিয়ে প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হলেও তা দ্রুত উত্তেজনায় রূপ নেয়। অভিযোগ রয়েছে, বিএনপি নেতাকর্মীরা অনুষ্ঠান পরিচালনাকারী নাটুদা হাই স্কুলের এক ধর্মীয় শিক্ষকের দিকে চড়াও হন এবং তাকে মারধরের চেষ্টা করেন। এ সময় জামায়াত নেতাকর্মীরা বাধা দিলে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির পরিস্থিতি তৈরি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজনের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, এক পর্যায়ে নাটুদা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির শামসুজ্জোহা এবং বিএনপি সভাপতির ভাই শামসুলের মধ্যে উত্তপ্ত বাকবিনিময় হয়।
তাদের দাবি, এ সময় বিএনপির এক নেতা জামায়াত নেতাকে ‘খেয়ে ফেলার’ হুমকি দেন, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।
দামুড়হুদা উপজেলা জামায়াতের আমির নায়েব আলী ও সেক্রেটারি মো. টিটন জানান, তারা কোনো ধরনের সংঘাত চাননি এবং পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেছেন। তবে তাদের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
অন্যদিকে, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল হাসান তনু বলেন, জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কোনো সমন্বয় করা হয়নি। এমনকি স্বাধীনতার ঘোষকের নাম বারবার অনুরোধের পরও উপস্থাপক এড়িয়ে যান। এতে নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, অনুষ্ঠানে বিএনপির নেতাদের যথাযথ আমন্ত্রণ ও সম্মান দেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওবায়দুল্লাহ রহমান সাহেল ঘটনাটিকে দুঃখজনক উল্লেখ করে জানান, দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।