দৌলতিয়া বাসডুবি
গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৬ মার্চ ২০২৬ ১৮:০৪ পিএম
দুর্ঘটনার কথা বর্ণনা করছিলেন অল্পের জন্য রক্ষা পাওয়া আবুল কালাম। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মা নদীতে যাত্রীবাহী বাস পড়ে যাওয়ার মর্মান্তিক ঘটনায় অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেছেন আবুল কালাম নামে এক যাত্রী। দুর্ঘটনার মাত্র দুই মিনিট আগে তিনি বাস থেকে নেমে পড়েছিলেন তিনি।
দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটে বুধবার বিকালে যাত্রীসহ ডুবে যায় সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত নিহত হয়েছেন ২৭ জন। ফেরিতে উঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পানিতে পড়ে যায় বাসটি।
আবুল কালাম দৌলতদিয়া ইউনিয়নের সৈদাল পাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং ঢাকার বাড্ডা এলাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত।
তিনি জানান, ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে ঢাকায় ফিরছিলেন তিনি। দৌলতদিয়া ঘাট থেকে সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসে ওঠেন কালাম। বাসটি তখন ফেরিতে ওঠার অপেক্ষায় ছিল। প্রায় ১০-১৫ মিনিট বাসে থাকার পর সিট না পেয়ে ইঞ্জিন কভারের ওপর বসতে যান তিনি। কিন্তু ইঞ্জিনের তাপে অস্বস্তি হওয়ায় দুর্ঘটনার দুই মিনিট আগে বাস থেকে নেমে নিচে দাঁড়ান। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই তার চোখের সামনে বাসটি পন্টুনের ওপর দিয়ে সরাসরি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়।
আবুল কালাম বলেন, “আমার সামনেই বাসটা ধীরে ধীরে নদীতে তলিয়ে গেল। আমি হতভম্ব হয়ে গিয়েছিলাম। যদি দুই মিনিট আগে না নামতাম, তাহলে হয়তো আজ আমি বেঁচে থাকতাম না”।
তিনি জানান, বাসের ভেতরে থাকা তার ব্যাগে শিক্ষাগত যোগ্যতার মূল সনদপত্র, জাতীয় পরিচয়পত্র, কোরিয়া যাওয়ার প্রস্তুতির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং নগদ সাড়ে চার হাজার টাকা ছিল। পরে বাসটি উদ্ধারের পর তিনি তার ব্যাগ ফিরে পেয়েছেন।