পটুয়াখালীর বাউফল
বাউফল প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৬ মার্চ ২০২৬ ১৫:০৬ পিএম
বাউফলে পাবলিক মাঠে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীরা। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
পটুয়াখালীর বাউফলে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে সামনের সারিতে বসা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছেন বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীরা।
পৌর শহরের পাবলিক মাঠে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে।
পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কুচকাওয়াজ শুরু আগেই অতিথিদের জন্য সংরক্ষিত সামনের সারির ডান পাশের আসনে উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মো. ইসাহাক মিয়া, সেক্রেটারি মো. খালিদুর রহমানসহ কয়েকজন নেতা-কর্মী বসেন। পরে বিএনিপ দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য ও বীরমুক্তিযোদ্ধা সহিদুল আলম তালুকদার ৪০-৫০ জন দলীয় নেতা-কর্মী নিয়ে মাঠে প্রবেশ করেন। পরে তিনি ও তার স্ত্রী সালমা আলম সামনের সারির বাঁ পাশে বসেন।
কিন্তু সামনের সারিতে পর্যাপ্ত চেয়ার না থাকায় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের অনেক নেতা-কর্মী বসতে পারেননি। এতে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবদুল্লাহ আল ফাহাদ সামনের সারিতে বসা ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতা ও স্থানীয় সাংসদের প্রতিনিধি মুজাহিদুল ইসলামকে চেয়ার ছাড়তে বলেন। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথম দফায় হাতাহাতি শুরু হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত বাউফল থানার পরিদর্শক আতিকুল ইসলাম এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সোহাগ মিলু হস্তক্ষেপ করেন। এতে সাময়িকভাবে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
তবে কিছুক্ষণ পরই দ্বিতীয় দফায় আবার উত্তেজনা দেখা দেয়। ছাত্রদল নেতা ফাহাদ জামায়াতকর্মী অহিদুজ্জামানের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে দ্বিতীয় দফায় মারামারির ঘটনা ঘটে। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সালেহ আহমেদ পুলিশ সদস্যদের সহযোগিতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং অনুষ্ঠান স্বাভাবিকভাবে সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেন।
এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক (ভারপ্রাপ্ত) মো. তসলিম তালুকদার বলেন, “সাবেক এমপি সহিদুল আলম তালুকদার সকালে স্বাধীনতা স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাবেক এমপিসহ আমরা পাবলিক মাঠে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে গিয়ে দেখি জামায়াতের লোকজন সামনের সারির সব চেয়ার দখল করে বসে আছেন। বিএনপির সিনিয়র নেতাদের বসার জন্য জামায়াতের কিছু নেতাদের চেয়ার ছাড়ার অনুরোধ করলে তারা উত্তেজিত হয়ে ওঠে। একপর্যায় তাদের নেতা-কর্মীরা ছাত্রদল ও যুবদলের নেতা-কর্মীদের ওপর অতর্কিতভাবে হামলা করে।”
এ বিষয়ে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মো. ইসাহাক বলেন, “কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানের অতিথিদের বসার জন্য নির্ধারিত যে চেয়ার ছিল তার একপাশে আমরা তিনজন বসেছি। অপর পাশে বিএনপির জন্য নির্ধারিত চেয়ার রাখা হয়। বিএনপির নেতা-কর্মীরা অনুষ্ঠানস্থলে এসে পরিকল্পিতভাবে আামাদের লোকজনের ওপর হামলা করে।”
এ বিষয়ে বাউফল থানার ওসি (তদন্ত) মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, “অনুষ্ঠানে সামনের সারিতে বসা নিয়ে বিএনপি ও জামায়াত নেতাদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। পরে তা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে নিয়ন্ত্রণে আসে। তাৎক্ষণিক কোনও পক্ষ অভিযোগ দেয়নি।”
সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো. সোহাগ মিলু বলেন, “এটা ভুল বুঝাবুঝি ছিল। কিছু সময় মাঠে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। পরে সমস্যার সমাধান করা হয়। এতে মাঠের কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠান বিঘ্ন ঘটেনি। যথাযথভাবেই অনুষ্ঠান শেষ হয়েছে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালেহ আহমেদ বলেন, “স্বাধীনতা দিবসের মতো একটি জাতীয় অনুষ্ঠানে এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। অনুষ্ঠানের আয়োজক হিসেবে উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করলে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না।”