চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ২৬ মার্চ ২০২৬ ০৯:২৯ এএম
আপডেট : ২৬ মার্চ ২০২৬ ১১:৩৮ এএম
চট্টলা এক্সপ্রেসে আগুনের খবর পেয়ে দমকলের কুমিরা কেন্দ্রের দুটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে সক্ষম হয়। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী আন্তঃনগর চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ফৌজদারহাট সংলগ্ন বিএমএ গেইট এলাকায় বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে চলন্ত ট্রেনটিতে হঠাৎ আগুন লাগে।
এতে ট্রেনের পাওয়ার কার ও একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) বগি পুড়ে যায়।
প্রাথমিকভাবে দমকল সূত্রে জানা যায়, সকাল পৌনে ৬টার দিকে ট্রেনটির বিদ্যুৎ সরবরাহ বগিতে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে তা পাশের একটি এসি বগিতে ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে কুমিরা দমকল কেন্দ্রের দুটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ৬টা ৪৩ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে এবং সকাল ৮টার দিকে পুরোপুরি নির্বাপণ করা হয়।
দ্রুত পদক্ষেপে এড়াল বড় দুর্ঘটনা
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানায়, আগুন লাগার পরপরই ট্রেনটি থামিয়ে দেওয়া হয় এবং অন্যান্য বগিগুলো আলাদা করে ফেলা হয়। ফলে আগুন আর ছড়িয়ে পড়তে পারেনি।
ট্রেনটির পেছনের দিকের পাঁচটি অক্ষত বগি নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয় নিকটবর্তী পাহাড়তলী শেডে। ক্ষতিগ্রস্ত পাওয়ার কার ও একটি এসি বগি আলাদা করে কুমিরা রেলওয়ে স্টেশনে নেওয়া হয় বলেও জানায় কর্তৃপক্ষ।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, পরবর্তীতে নতুন পাওয়ার কার ও একটি এসি কোচ সংযোজন করে ট্রেনটি পুনরায় ঢাকার উদ্দেশে যাত্রার প্রস্তুতি নেয়।
ঘটনার পর চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাসহ বিভিন্ন রুটে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে ব্যাহত হলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের কর্মকর্তারা জানান, ট্রেনটিতে মোট ১৮টি বগি ছিল। এর মধ্যে একটি পাওয়ার কার ও একটি এসি বগি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পাওয়ার কার বা জেনারেটর বগি থেকেই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে, তবে নিশ্চিত কারণ এখনও জানা যায়নি।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তাকে (ডিটিও) প্রধান করে গঠিত এই কমিটিকে দ্রুত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে বলেও জানান তারা।
সীতাকুণ্ড উপজেলার কুমিরা দমকল কেন্দ্রের সহকারী কর্মকর্তা জানান, দ্রুত সাড়া দেওয়ার কারণে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। আগুনে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে নিশ্চিত করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।