সাইফুল হক মোল্লা দুলু, মধ্যাঞ্চলীয় অফিস
প্রকাশ : ২৫ মার্চ ২০২৬ ১৬:৫৮ পিএম
বোরো মৌসুমের শুরু কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে যখন সবুজ ধানগাছগুলো উঁকি দিচ্ছিল, ঠিক তখনই শিলাবৃষ্টিতে ধানের গাছ হেলে পড়েছে। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
মৌসুমের শুরুতেই কিশোরগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় শিলাবৃষ্টিতে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ফসল নষ্টের চিন্তায় কৃষকের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ।
জেলার নিকলী আবহাওয়া অফিসের বেলুন মেকার আলতাফ হোসেন বুধবার জানান, মঙ্গলবার রাতে নিকলীতে ১৯ দশমিক ৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। পাশাপাশি দুই দফায় ব্যাপক শিলাবৃষ্টিও হয়েছে।
কৃষকরা বলছেন, বোরো মৌসুমের শুরু কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে যখন সবুজ ধানগাছগুলো উঁকি দিচ্ছিল, ঠিক তখনই শিলাবৃষ্টিতে ধানের গাছ হেলে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে কৃষকদের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।
বুধবার খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হাওর অধ্যুষিত ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রাম ও নিকলী উপজেলাসহ জেলা সদর, পাকুন্দিয়া, হোসেনপুর, কটিয়াদী ও ভৈরবের বিভিন্ন এলাকায় গতকাল মঙ্গলবার বিকেল ও রাতে দুই দফায় হওয়া শিলাবৃষ্টিতে জেলার প্রায় চার হাজার হেক্টর বোরো ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে জেলার হাওরাঞ্চলেই ক্ষতির প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে। ফলে এবার বোরো ফসল ঘরে তোলা নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন হাওরাঞ্চলের কৃষকরা।
জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে মিঠামইন উপজেলায় প্রায় ২,৫০০ হেক্টর জমির বোরো ধান। এছাড়া ইটনায় ৯৮৬ হেক্টর, অষ্টগ্রামে ১৪০ হেক্টর, নিকলীতে ১০০ হেক্টর, পাকুন্দিয়ায় ১২০ হেক্টর, হোসেনপুরে ১০ হেক্টর, কুলিয়ারচরে ৬ হেক্টর এবং ভৈরবে ২ হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চৈত্রের এমন সময়ে ধান গাছে যখন থোড় বের হচ্ছিল, ঠিক সেই মুহুর্তে শিলাবৃষ্টি কৃষকদের শঙ্কায় ফেলেছে। শিলাবৃষ্টির কারণে বোরো ধানের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।
অষ্টগ্রাম উপজেলার কাস্তুল ইউনিয়নের করগাঁও মৌজার পাটাচাপড়া গ্রামের কৃষক রহিম মিয়া বলেন, “কিছুদিন আগেও ফসল ভালো ফলনের জন্য বৃষ্টির খুবই প্রয়োজন ছিল। কিন্তু গতকালের শিলাবৃষ্টিতে আমাদের সব শেষ হয়ে গেছে”।
ইটনা উপজেলার সদর ইউনিয়নের খালপাড়া গ্রামের কৃষক আমির হোসেন বলেন, “শিলাবৃষ্টিতে আমরা একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেছি। পরিবার-পরিজন নিয়ে কীভাবে চলবো, ভেবে পাচ্ছি না। শিলাবৃষ্টিতে আমাদের সবকিছু শেষ হয়ে গেছে”।
কিশোরগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. সাদিকুর রহমান বলেন, “শিলাবৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে বোরো ধানের। বিশেষ করে হাওরাঞ্চলে ক্ষতির মাত্রা বেশি। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের করণীয় বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে এবং তিনি নিজেও হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে যাচ্ছেন”।