মধ্যাঞ্চলীয় অফিস, আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৪ মার্চ ২০২৬ ১৬:১০ পিএম
জ্বালানির জন্য পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইনে দাড়িয়ে আছেন মোটরসাইকেল আরোহীরা। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
ঈদুল ফিতরের ছুটিতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বগুড়ার আদমদীঘিতে ফিলিং স্টেশনগুলোতে অকটেনের সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে, অন্যদিকে কিশোরগঞ্জে পাম্পে তেল না থাকলেও খোলা বাজারে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে পেট্রোল ও অকটেন। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ ও যানবাহন চালকরা।
বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায় চারটি ফিলিং স্টেশনে অকটেনের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার সরেজমিনে সান্তাহার পৌর শহরের বিভিন্ন স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, পেট্রল ও ডিজেলের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও অকটেন সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। ফলে মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে পেট্রল নিতে হচ্ছে।
স্থানীয় মোটরসাইকেলচালকরা জানান, অকটেনচালিত যানবাহনে পেট্রল ব্যবহার করতে বাধ্য হওয়ায় ইঞ্জিন ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাছাড়া তীব্র রোদের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিতে হচ্ছে।
ফিলিং স্টেশন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উপজেলার মুরইল, সান্তাহার পূর্ব ঢাকা রোড, হবীর মোড় ও বাইপাস এলাকার চারটি স্টেশনে ঈদকে কেন্দ্র করে অকটেনের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দ্রুত মজুদ শেষ হয়ে গেছে। পাশাপাশি ডিপো থেকে পর্যাপ্ত সরবরাহ না পাওয়ায় সংকট আরও তীব্র হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে মোটরসাইকেলে সর্বোচ্চ ২০০ টাকা এবং প্রাইভেট কারে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকার পেট্রল দেওয়ার সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, কিশোরগঞ্জে গত তিন সপ্তাহ ধরে পেট্রোল ও অকটেনের তীব্র সংকট বিরাজ করছে। জেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে তেল না থাকলেও খোলা বাজারে বোতলজাত করে অতিরিক্ত দামে বিক্রি করা হচ্ছে জ্বালানি তেল।
স্থানীয় সূত্র জানায়, কোথাও কোথাও প্রতি লিটার পেট্রল ও অকটেন ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে, যা সরকার নির্ধারিত মূল্যের প্রায় দ্বিগুণ। এতে সাধারণ ভোক্তারা বাধ্য হয়ে বেশি দামে তেল কিনছেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পাম্পে তেল না থাকলেও খোলা বাজারে সহজেই পাওয়া যাচ্ছে, যা একটি সংঘবদ্ধ চক্রের কারসাজি হতে পারে। এতে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে অতিরিক্ত মুনাফা আদায় করা হচ্ছে।
কিশোরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মোফাজ্জল হোসেন বলেন, “খোলা তেল বিক্রিতে নাশকতার আশঙ্কা থাকে। পাশাপাশি রয়েছে দুর্ঘটনার শঙ্কা। এ জন্য প্রশাসনের আন্তরিকতা প্রয়োজন”।
জ্বালানির এই সংকট ব্যাপকভাবে প্রভাব পড়েছে কৃষিখাতেও। সদর উপজেলার যশোদল ইউনিয়নের ভূবিরচর গ্রামের কৃষক আমির হোসেন বলেন, এখন সেচের মৌসুম চলছে। এই সময়টায় জমিতে নিয়মিত পানি দিতে না পারলে ধানসহ অন্যান্য ফসল বাঁচানো একেবারেই কঠিন হয়ে পড়ে। কিন্তু ডিজেল সংকটের কারণে আমরা ঠিকমতো সেচ দিতে পারছি না। ফিলিং স্টেশনগুলোতে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও তেল পাওয়া যাচ্ছে না, খালি হাতে ফিরে আসতে হচ্ছে। অন্যদিকে, খোলা বাজারে তেল পাওয়া গেলেও সেখানে দাম এত বেশি যে আমাদের মতো সাধারণ কৃষকদের পক্ষে তা বহন করা খুবই কষ্টকর। তারপরও ফসল বাঁচানোর জন্য বাধ্য হয়ে বেশি দামে তেল কিনতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে একাধিক ফিলিং স্টেশন মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ঈদের আগে কর্তৃপক্ষ তাদের চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ করেনি। যেখানে তারা তিন লরি তেলের প্রয়োজন, সেখানে রেশন সিস্টেমে দেওয়া হয়েছে। চলতি মাসে তাদের দেওয়া পাঁচ হাজার লিটার ডিজেল ও পেট্রোল ঈদের আগেই শেষ হয়ে গেছে। এখন গ্রাহকরা এসে ফিরে যাচ্ছেন। যেখানে চাহিদা নয় হাজার লিটারের, সেখানে দেওয়া হচ্ছে মাত্র দুই হাজার লিটার।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুল হাসান মারুফের সঙ্গে ফোনে কথা হলে তিনি প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, “আমি নিজেও একটা ফেসবুক পোস্ট দিয়েছি যে যদি এরকম কোনো জায়গায় কোনো তথ্য থাকে, আমাকে ইনসট্যান্ট পাঠান; আমি এখনই ব্যবস্থা নিচ্ছি। আমার ম্যাজিস্ট্রেট যাবে, আমি যাব, ওসি সাহেব যাবে। যে জায়গায় এরকম খোলা বাজারে বিক্রি হবে, সাথে সাথে আমরা আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে”।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ নাহিদ হাসান খান বলেন, “এই বিষয়টি এডিএম দেখেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট। তো যাই হোক এই বিষয়টা আমি নলেজে দিব”।