খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক, খাগড়াছড়ি
প্রকাশ : ২৪ মার্চ ২০২৬ ১১:৫১ এএম
আপডেট : ২৪ মার্চ ২০২৬ ১১:৫৪ এএম
খাগড়াছড়ি থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার দূরে আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্রে অবস্থিত আলুটিলা গুহাটি স্থানীয়দের কাছে ‘মাতা দেবীর গুহা’ নামেও পরিচিত। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি-র প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ভাণ্ডারে লুকিয়ে থাকা এক রহস্যময় আকর্ষণ হলো আলুটিলা গুহা। সবুজ পাহাড়, আঁকাবাঁকা পথ আর শীতল ছায়ার মাঝে দাঁড়িয়ে থাকা এই গুহা যেন প্রকৃতির হাতে গড়া এক অনন্য শিল্পকর্ম।
দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছে এটি এখন এক অনিবার্য গন্তব্যে পরিণত হয়েছে।
প্রকৃতির এক অনন্য সৃষ্টি
খাগড়াছড়ি শহর থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার দূরে আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্রে অবস্থিত এই গুহাটি স্থানীয়দের কাছে ‘মাতা দেবীর গুহা’ নামেও পরিচিত।
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩০০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত আলুটিলা পাহাড়ের বুক চিরে থাকা এই গুহা সম্পূর্ণ প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্টি। দীর্ঘ সময় ধরে পানির প্রবাহ, শিলা ক্ষয় ও ভূ-প্রাকৃতিক পরিবর্তনের ফলে এটি গড়ে উঠেছে।
গুহাটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৩৫০ ফুট এবং ভেতর দিয়ে হেঁটে যেতে সময় লাগে ১০ থেকে ১৫ মিনিট।
অন্ধকারে রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা
গুহার ভেতরের পরিবেশ একেবারেই ভিন্ন। ঘন অন্ধকার, ঠান্ডা স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়া এবং পাথরের ফাঁক দিয়ে চুঁইয়ে পড়া পানি তৈরি করে রহস্যময় অনুভূতি।
সূর্যের আলো এখানে প্রায় পৌঁছায় না। তাই গুহায় প্রবেশের আগে টর্চ বা আলোর ব্যবস্থা থাকা অত্যন্ত জরুরি।

প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শত শত পর্যটক এখানে ভিড় করেন। বিশেষ করে ঈদ, পূজা বা ছুটির দিনে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি থাকে চোখে পড়ার মতো। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
এর সরু ও আঁকাবাঁকা পথই গুহাটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য। কোথাও মাথা নিচু করে, কোথাও পাথর ধরে এগোতে হয়—যা ভ্রমণকে আরও রোমাঞ্চকর করে তোলে।
পর্যটকদের অভিজ্ঞতা
ঢাকা থেকে আসা পর্যটক সাদিক হোসাইন বলেন, “আলুটিলা গুহার অভিজ্ঞতা সত্যিই অন্যরকম। ভেতরের অন্ধকার আর ঠান্ডা পরিবেশ আমাকে এক ভিন্ন জগতে নিয়ে গিয়েছিল।”
চট্টগ্রাম থেকে আগত তানজিলা সুলতানা জানান, “প্রথমে ভয় লাগলেও পরে বুঝেছি, এটাই আসল মজা। প্রাকৃতিক গুহা কাছ থেকে দেখা অসাধারণ।”
রাজশাহী থেকে আসা শিক্ষার্থী রিয়াদ হোসেনের ভাষায়, “গুহার ভেতরে ঢুকে মনে হয়েছে প্রকৃতির ভেতরেই হারিয়ে গেছি।”
স্থানীয় বাসিন্দা নিশিতা ত্রিপুরা বলেন, “এই গুহা আমাদের গর্ব। সবাই আসুক, তবে সচেতনভাবে ঘুরে দেখুক।”
গুহাটিকে ঘিরে যে ‘রহস্য’
শুধু গুহাই নয়, আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্রের চারপাশের দৃশ্যও অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর। পাহাড়ের চূড়া থেকে সবুজ বনভূমি ও নীল আকাশের মেলবন্ধন দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে।
সূর্যাস্তের সময় এই স্থান আরও মোহনীয় হয়ে ওঠে। স্থানীয়দের কাছে গুহাটি নিয়ে নানা লোককথা প্রচলিত রয়েছে। কেউ এটিকে আধ্যাত্মিক সাধনার স্থান, আবার কেউ পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর আশ্রয়স্থল বলে মনে করেন।
পর্যটন উন্নয়নের লক্ষ্যে এখানে সিঁড়ি, বিশ্রামাগারসহ নানা সুবিধা গড়ে তোলা হয়েছে। তবে ভেজা পাথরের কারণে গুহায় চলাচলে সতর্কতা জরুরি।
প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শত শত পর্যটক এখানে ভিড় করেন। বিশেষ করে ঈদ, পূজা বা ছুটির দিনে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি থাকে চোখে পড়ার মতো।
প্রকৃতি, রহস্য ও রোমাঞ্চের অনন্য সমন্বয়ে গড়ে ওঠা আলুটিলা গুহা শুধু একটি দর্শনীয় স্থান নয়, এটি এক জীবন্ত অভিজ্ঞতা। ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক পর্যটন মানচিত্রে এটি আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠবে—এমনটাই প্রত্যাশা সবার।