মাশরুর মুর্শেদ, খুলনা
প্রকাশ : ২১ মার্চ ২০২৬ ১৯:২৫ পিএম
নদীবেষ্টিত শান্ত জনপদ খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার দিঘলদ্বীপ এখন উৎসবের নগরী। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে স্থানীয় ওয়াইএমএ ক্লাব মাঠে শুরু হয়েছে পাঁচ দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী ঈদ মেলা। ঈদের দিন থেকেই মেলা প্রাঙ্গণে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। স্থানীয়দের উপচে পড়া ভিড় আর উচ্ছ্বাসে মেলাটি এখন এ অঞ্চলের মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।
সকাল থেকেই মেলায় মানুষের আনাগোনা শুরু হলেও বিকেলের পর তা রূপ নেয় জনসমুদ্রে। শিশু থেকে বৃদ্ধ—সব বয়সী মানুষের পদচারণায় মুখর পুরো প্রাঙ্গণ। মেলায় শিশুদের প্রধান আকর্ষণ নাগরদোলা, ট্রেন রাইড ও বিভিন্ন খেলার স্টল। এসব রাইডে চড়তে শিশুদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে।
মেলায় আসা দর্শনার্থী রহিম শেখ বলেন, আমরা সারা বছর এই মেলার জন্য অপেক্ষা করি। আমাদের এলাকা তো একটু বিচ্ছিন্ন, শহরে যেতে কষ্ট হয়। তাই এই মেলাই আমাদের ঈদের সবচেয়ে বড় আনন্দ।
শুধু আনন্দ ভ্রমণই নয়, বন্ধুদের আড্ডার প্রিয় স্থানও এই মেলা। কিশোর তানভীর হাসান বলে, বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে এসে খুব ভালো লাগছে। নাগরদোলায় চড়েছি, বিভিন্ন খেলাও খেলেছি। এই মেলা না হলে ঈদের মজা অর্ধেকই থাকত।
মেলায় শুধু বিনোদন নয়, রয়েছে নানা ধরনের খাবারের স্টল। ফুচকা, চটপটি, জিলাপি থেকে শুরু করে গ্রামীণ ঐতিহ্যের নানা খাবার পাওয়া যাচ্ছে। বিক্রেতারা জানান, প্রথম দিনেই ভালো বেচাকেনা হয়েছে।
একজন দোকানি আব্দুল করিম বলেন, “প্রথম দিনেই এত ভিড় হবে ভাবিনি। বিক্রি ভালো হচ্ছে। আশা করছি বাকি দিনগুলোতেও এমনই চলবে”।
স্থানীয়দের মতে, দিঘলদ্বীপের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এখানে বড় ধরনের বিনোদনের সুযোগ খুব কম। চারপাশে নদী থাকায় শহরে যাতায়াতেও রয়েছে সীমাবদ্ধতা। তাই এই ঈদ মেলাকে ঘিরেই তৈরি হয় বছরের সবচেয়ে বড় সামাজিক মিলনমেলা।
মেলার আয়োজক ওয়াইএমএ ক্লাব-এর এক সদস্য জানান, প্রতিবছরের মতো এবারও আমরা চেষ্টা করেছি সুন্দর পরিবেশে মেলার আয়োজন করতে। নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সামনে আরও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বিভিন্ন আয়োজন থাকবে।
স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা মফিজ উদ্দিন বলেন, এই মেলা আমাদের এলাকার ঐতিহ্য। ছোটবেলা থেকে দেখে আসছি। এখনো সেই আনন্দ আছে, বরং সময়ের সঙ্গে আরও বড় হয়েছে।
সব মিলিয়ে, ঈদের আনন্দকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে দিঘলদ্বীপের এই মেলা। প্রথম দিনের এমন প্রাণবন্ত উপস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে, আগামী দিনগুলোতে আরও বড় পরিসরে জমে উঠবে এই উৎসব। পরিবার, বন্ধু আর স্বজনদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে প্রতিদিনই ভিড় বাড়বে এমনটাই প্রত্যাশা সবার।